সর্বশেষ খবর
দুর্গার পাশে জয়া-বিজয়া, গুসকরার ঘটকবাড়িতে আজও অটুট ৪০০ বছরের ঐতিহ্য
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলার দুর্গাপুজো বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিংহবাহিনী দশভুজা দেবীর প্রতিমা। যাঁর পায়ের কাছে মহিষাসুর আর দুই পাশে লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিক। কিন্তু বাংলার দুর্গাপুজোর এই চেনা ছবির বাইরেও রয়েছে এক সম্পূর্ণ অন্য রীতি ও স্বতন্ত্র উপাসনার পরম্পরা। যেখানে দেবী দুর্গার সঙ্গে থাকেন না তাঁর চার সন্তান। পরিবর্তে দেবীর দুই পাশে দেখা যায় তাঁর দুই প্রিয় সখী জয়া এবং বিজয়াকে। পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার ঐতিহ্যবাহী ঘটকবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও এই অনন্য ও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে গড়া হয় প্রতিমা।
চার শতাধিক বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজো ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, পুরাণ এবং বাংলার পারিবারিক পুজোর নিজস্ব ঐতিহ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটকবাড়ির এই দুর্গাপুজোই গুসকরা অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীনতম পুজো। পুরাণের কাহিনিতেও দেবী দুর্গার সখীদের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। কালিকাপুরাণ ও দেবীপুরাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাখ্যানে দেবীর অষ্টসখীর কথা পাওয়া যায়।
প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহাদেবের সঙ্গে বিয়ের পর পার্বতী যখন কৈলাসে যাত্রা করেন, তখন তাঁর সঙ্গে আট সখীকেও পাঠানো হয়েছিল। প্রাচীন সমাজে বিয়ের পর কন্যার সঙ্গে সখী ও পরিচারিকাদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর যে সামাজিক রীতি ছিল, এই উপাখ্যানের মধ্যে তারই প্রতিফলন দেখা যায় বলে মনে করা হয়। দেবীর সেই আট সখীর মধ্যে জয়া এবং বিজয়া বিশেষ ভাবে পরিচিত ও পূজিত। উৎসবের দিনগুলিতে ঘটকবাড়ির এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা দর্শন করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমান বহু মানুষ।

