সর্বশেষ খবর
পুজোয় রক্তের তীব্র সঙ্কট: ডোনার ছাড়া মিলছে না রক্ত, বিপাকে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এতদিন প্রতি পুজোয় কমবেশি রক্তের জন্য হাহাকার পড়ে যাওয়ার ছবি চেনা ছিল রাজ্যবাসীর। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর। শুধু রক্তের বোতল নয়, রাজ্যে চরম হাহাকার পড়েছে রক্তদাতার (ডোনার) জন্যও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কলকাতা তথা রাজ্যের অধিকাংশ ব্লাড সেন্টার (পূর্বতন ব্লাড ব্যাংক) রোগীর বাড়ির লোকজনের মুখের ওপর সাফ জানিয়ে দিচ্ছে— হয় ডোনার নিয়ে আসুন, নয়তো রক্ত পাবেন না। অর্থাৎ, কোনও রোগীর জন্য যদি ১ ইউনিট 'এ পজিটিভ' রক্তের প্রয়োজন হয়, তবে ব্লাড ব্যাংক থেকে তা পেতে রোগীর আত্মীয়দের বদলে 'এ পজিটিভ' কিংবা অন্য যে কোনও গ্রুপের ১ ইউনিট রক্ত দান করতে হবে।
সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমনকি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রেও এই 'রিপ্লেসমেন্ট ডোনেশন' বা বদলি রক্তদাতার দাবি করছে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক। ফলে উৎসবের মরশুমে থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্তদের পরিবারগুলি চরম অসহায়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতি তিন-চার সপ্তাহ অন্তর যাদের নিয়ম করে রক্ত দিতে হয়, ডোনারের অভাবে তাদের জীবন এখন সংশয়ের মুখে। রক্ত জোগাড়ের জন্য এখন রোগীর পরিবারগুলির শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের দেওয়ালে দেওয়ালে ঘুরছে একের পর এক কাতর আবেদন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এমনই একটি বার্তায় এক অসহায় পরিবার লিখেছে, “আমার এক নিকট আত্মীয় থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর ওকে রক্ত দিতে হয়। আমরা বর্তমানে খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। রিপ্লেসমেন্ট ডোনার না দিলে ব্লাড ব্যাংক রক্ত দিতে চাইছে না। ২৫ তারিখ ওকে রক্ত দিতে হবে, অথচ ২২ তারিখের মধ্যে ডোনার জোগাড় করার ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। বাড়ির যাঁরা রক্ত দিতে পারতেন, তাঁরা সকলেই গত ১-২ মাসে রক্ত দিয়ে দিয়েছেন। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে একজন ডোনার চাই।” রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব অপূর্ব ঘোষ বলেন, মারাত্মক রক্ত সংকট চলছে। সরকার যদি স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহ দিতে করত, এমনটা হত না।

