সর্বশেষ খবর
বিশ্বকাপে কত টাকা পাচ্ছেন রেফারিরা?
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফুটবলারদের বুট থেকে যেমন ফুলকি ছোটে, তেমনই তাঁদের কাঁধে থাকে কোটি কোটি ভক্তের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার চাপ। কিন্তু মাঠের সেই ২২ জন তারকার ভাগ্য যাঁদের বাঁশির ফুঁ-তে নির্ধারিত হয়, সেই রেফারিরা প্রতি মুহূর্তে থাকেন আতসকাচের তলায়। একটি সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, খলনায়ক বানিয়ে দিতে পারে রেফারিকে। ফুটবলারদের আকাশছোঁয়া চুক্তি এবং কোটি কোটি টাকার বেতনের খতিয়ান কম-বেশি সকলেরই জানা। কিন্তু বিশ্বমঞ্চের এই নিয়ামকদের পকেটে কত টাকা ঢোকে? তা নিয়ে আপামর ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। আর কয়েকদিন পরেই শুরু হতে চলা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রেফারিদের সেই আয়ের অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে। তবে কেবল অর্থই নয়, ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রেও রেফারিদের শরীরে যুক্ত হতে চলেছে অবিশ্বাস্য বৈপ্লবিক প্রযুক্তি।
ফিফা সূত্রের খবর, এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিদের জন্য থাকছে চোখধাঁধানো আর্থিক প্যাকেজ। নির্বাচিত প্রধান রেফারিদের জন্য টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বেসিক পারিশ্রমিকই করা হচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮৩ থেকে ৯৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এর বাইরে প্রতি ম্যাচে বাঁশি মুখে নামার জন্য আলাদা ম্যাচ ফি তো থাকছেই। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে নকআউট কিংবা মেগা ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলে বোনাস ও ভাতার অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফাইনালের দায়িত্বে থাকা রেফারির পকেটে সব মিলিয়ে ঢুকতে পারে প্রায় ৩ লক্ষ মার্কিন ডলার। প্রধান রেফারিদের পাশাপাশি সহকারী রেফারি এবং ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়ালদের (VAR) পকেটেও ঢুকবে মোটা অঙ্কের রিটেইনার ফি।
শুধু টাকাই নয়, রেফারিদের সিদ্ধান্তকে নির্ভুল করতে এবং মাঠের বিতর্ক এড়াতে এবার প্রযুক্তির চূড়ান্ত মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে ফিফা। রেফারিদের অফিশিয়াল কিটের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘রিয়েল-টাইম স্টেবিলাইজড বডি ক্যামেরা’। মাঠের তীব্র দৌড়ঝাঁপের মধ্যেও যাতে ফুটেজ কেঁপে না যায়, তার জন্য এই ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই-পাওয়ার্ড স্টেবিলাইজেশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে রেফারিরা মাঠে ঠিক কোন কোণ থেকে ঘটনাটি দেখছেন, তা নিখুঁত এবং মসৃণভাবে টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখতে পাবেন দর্শকরা। এতে ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বহুগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে বলের ভেতরে থাকা সেন্সর এবং কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটবলারদের বডি স্ক্যান করে তৈরি করা ‘ডিজিটাল টুইন’ মিলিমিটারের নিখুঁত অফসাইড ধরতে সাহায্য করবে রেফারিদের। আধুনিক ফুটবল যে এবার পুরোপুরি প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে, তা বলাই বাহুল্য।

