সর্বশেষ খবর
বিমানকে ‘স্পন্ডিলাইটিস’ খোঁচা ঋতব্রতর
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Assembly) এবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ফাটল। ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে বিধানসভার অন্দরে সম্পূর্ণ আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। নিজেদেরই প্রকৃত ‘তৃণমূল কংগ্রেস সংসদীয় দল’ বা আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই আবহেই নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandopadhayay) নাম না করে বিধানসভার পূর্ববর্তী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে এক চরম দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দলের সিংহভাগ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের দিকেই রয়েছে। নিজেদের আসল তৃণমূল প্রমাণ করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। স্পিকারের বিশেষ ছাড়পত্র মেলার পর বিধানসভায় তাঁদের তৈরি করা নতুন ব্লক রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ঋতব্রতবাবু পূর্বতন স্পিকারের কাজের ঘরানা এবং পক্ষপাতিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আইনসভার ভেতরে বিধায়কদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের এই চরম পদক্ষেপের পর তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শিবিরের অন্দরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই ধরণের দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং বেআইনিভাবে আলাদা ব্লক তৈরি করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে দল। গোটা ঘটনার পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিআইডি ইতিমধ্যেই এই দল ভাঙানোর নেপথ্যে থাকা আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো চক্রান্তের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।
একই সাথে, বিধানসভার বর্তমান স্পিকার রথীন্দ্র বোসের দেওয়া ‘বিরোধী দলনেতা’র স্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল। হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের দাবি জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে সিআইডি তদন্ত আর অন্যদিকে হাইকোর্টের আইনি লড়াই— দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে আগামী দিনে বাংলার সংসদীয় রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

