সর্বশেষ খবর
পালাবদলের পর প্রথমবার পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী, আকাঙ্ক্ষা পূরণে মেগা ঘোষণা
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই নিয়ে তৃতীয়বার উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে তিনি শিলিগুড়ি ও মালদহে দুটি সফল প্রশাসনিক বৈঠক করলেও, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাহাড়ে এটিই তাঁর প্রথম পদার্পণ। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিওট গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত ও সংবর্ধনা জানাতে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সেই উপচে পড়া জনসভা থেকেই পাহাড়ের আবেগ ছুঁয়ে একগুচ্ছ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাহাড় বিজেপির দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সাথী। ২০০৯ সাল থেকে এখানকার মানুষ একটানা পদ্মফুলের ওপর ভরসা রেখেছেন। তাই পাহাড়বাসীর আশা, ভরসা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা সার্বিকভাবে পাহাড়ের চেহারা বদলে দিতে কাজ করব।”
পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে নতুন সরকারের তরফে একটি সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মূলত চারটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাহাড়ের ধসপ্রবণ রাস্তাগুলির সংস্কার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মসৃণ করা। বর্ষাকালে পাহাড়ের অন্যতম বড় সমস্যা ধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। কর্মসংস্থান বাড়াতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও অফবিট হোমস্টে সংস্কৃতির আধুনিকীকরণ। পাহাড়ের যুবসমাজের জন্য বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সূচনা।
এর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল বদল আনা হবে বলে জানা যাচ্ছে। পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ের স্কুলগুলির পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের 'পিএমশ্রী' (PM-SHRI) প্রকল্পকে দ্রুত কার্যকর করা হবে। এই প্রকল্পের অধীনে পাহাড়ের সরকারি স্কুলগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন 'স্মার্ট ক্লাসরুম' গড়ে তোলা হবে, যাতে পাহাড়ের প্রান্তিক শিশুরাও আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম পাহাড় সফর এবং একগুচ্ছ ঘোষণা পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

