বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সর্বশেষ খবর

"মনের মানুষ টুম্পা"র আড়ালে বিপদের খাঁড়া মেমারিতে

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
"মনের মানুষ টুম্পা"র আড়ালে বিপদের খাঁড়া মেমারিতে
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নূর আহমেদ, মেমারি: মেমারি-মন্তেশ্বর রোডে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে বেপরোয়া মোটর ভ্যান, উদাসীন প্রশাসন!
সরকারি নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেমারি-মন্তেশ্বর রোডে রমরমিয়ে চলছে তিন চাকার অবৈধ মোটর ভ্যান। ওভারলোডিং থেকে শুরু করে লাইসেন্সবিহীন চালক— সব মিলিয়ে এই রাস্তায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ এবং অন্যান্য বৈধ গাড়ি চালকদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যানগুলি।

গাড়ির পিছনে আবার খুব আকর্ষণীয় কথা লেখা আছে 'মনের মানুষ টুম্পা' আর তার আড়ালে লুকিয়ে বিপদের খাঁড়া।
সম্প্রতি মেমারি-মন্তেশ্বর রোডের এক চিত্রে দেখা গেছে, একটি মোটর ভ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি বস্তা বোঝাই করে বিপজ্জনকভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ সেই গাড়ির পিছনে একদিকে যেমন বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে  সরকারের স্লোগান "Save Drive Save Life", ঠিক তার পাশেই আবার লেখা রয়েছে "মনের মানুষ টুম্পা"। 
স্লোগানের এই পরিহাসই বলে দেয়, আইনকে কতটা হালকাভাবে নিচ্ছে এই সমস্ত যানের মালিক ও চালকেরা। নেই ব্যাক লুকিং গ্লাসও।  প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই মোটর ভ্যানগুলির পিছনে বোঝাই করা মালের বহর এতটাই বেশি থাকে যে, চালকের পক্ষে পিছনের রাস্তা দেখা একেবারেই অসম্ভব। গাড়িতে কোনো ব্যাক লুকিং গ্লাস নেই, আর ছোট সাইড মিরর থাকলেও তা বস্তার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। ফলে পিছন থেকে কোন গাড়ি আসছে বা পাশ কাটিয়ে বেরোতে চাইছে, তা চালক বিন্দুমাত্র টের পান না। এর জেরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ক্ষুব্ধ বৈধ গাড়ি চালকেরা। 
রাস্তায় বৈধভাবে চড়া ট্যাক্স  দিয়ে চলাচলকারী চার চাকার গাড়িগুলি এই মোটর ভ্যানগুলির জন্য চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ওভারলোডেড ভ্যানগুলির খামখেয়ালি যাতায়াতের কারণে প্রায়শই রাস্তায় যানজট তৈরি হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ সরকারি নিয়ম মেনে চলা গাড়িগুলিকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই তিন চাকার মোটর ভ্যান যারা চালাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। নেই রাস্তাঘাটে গাড়ি চালানোর মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও। খুব কম খরচে একসঙ্গে প্রচুর মালপত্র বহন করা যায় বলে বাণিজ্যিক স্বার্থে এই ভ্যানগুলির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই মোটর ভ্যানগুলি কেনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত শোরুম বা স্টোর নেই। যে কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল লেদ কারখানাতেই মোটর বাইকের ইঞ্জিনের সাথে বা ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের সাথে জোড়াতালি দিয়ে এই তিন চাকার ঝুঁকিপূর্ণ যানগুলি তৈরি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও অভিযোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চোখের সামনে এমন বিপজ্জনক কারবার চললেও প্রশাসন এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং এই অবৈধ মোটর ভ্যানগুলির চলাচল বন্ধ করে, এখন সেটাই মেমারির সাধারণ মানুষের মূল দাবি।

আরও খবর