সর্বশেষ খবর
আর জি করে ফের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গেল। যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CISF) ওপর হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই রক্ষকই এবার ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মেয়েকে হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল কর্তব্যরত এক সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি ওই জওয়ান; অপরাধের গোপন ভিডিও নিজের স্মার্টফোনে রেকর্ড করে নির্যাতিতাকে লাগাতার ব্ল্যাকমেলও করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরবর্তীকালে আরও দু’বার ওই তরুণীকে নিজের লালসার শিকার বানায় অভিযুক্ত জওয়ান। অবশেষে চরম মানসিক ট্রমা কাটিয়ে সাহস সঞ্চয় করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা তরুণী। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নারায়ণপুর থানা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত জওয়ানকে আপাতত শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, আর জি কর হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসার সুবাদে ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানের। সেই আলাপ ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই একদিন কৌশলে তরুণীকে নারায়ণপুর থানা এলাকার একটি হোটেলে ডেকে পাঠায় সে। সেখানেই প্রথমবার তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে সেই মুহূর্তের ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করে রাখা হয়।
প্রথমবার অত্যাচারের পর ওই ভিডিওর কথা জানিয়ে তরুণীকে লাগাতার হুমকি দিতে শুরু করে অভিযুক্ত জওয়ান। লোকলজ্জা এবং অপমানের ভয়ে প্রথমদিকে চুপ করে থাকতে বাধ্য হন নির্যাতিতা। এই সুযোগ নিয়ে ভিডিওটি ডিলিট করার টোপ দিয়ে আরও দু'বার তরুণীকে ডেকে ধর্ষণ করা হয় বলে থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়েছে।
দিনের পর দিন এমন নারকীয় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নারায়ণপুর থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন ওই তরুণী। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিচার করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তারা অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীকে পাকড়াও করে পুলিশ। তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আর জি করের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে।

