সর্বশেষ খবর
মমতার অধঃপতন হয়েছে, তোপ কাকলির
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করলেন বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুক্রবার রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বারাসত জেলা পরিষদের প্রেক্ষাগৃহে নিজের কোচিং সেন্টারের কৃতী পড়ুয়াদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের একদা জনপ্রিয় ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে খেলা পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছেন।”
দলবদলের পর এ দিন প্রথম থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন বারাসতের চার বারের এই সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি দল ছাড়ার কারণও স্পষ্ট করে দেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাকলি বলেন, “গত ৪০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী ছিলেন। কিন্তু তাঁর এখন চরম অধঃপতন হয়েছে। গত পাঁচ-সাৎ বছর ধরে ওঁর ব্যবহারে আমি এতটাই মর্মাহত হয়ে পড়েছিলাম যে শেষ পর্যন্ত দলত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।”
এখানেই শেষ নয়, দলত্যাগ-বিরোধী আইন এবং লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক নোটিস প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। কাকলি জানান, পুরো বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। তবে লোকসভার স্পিকারের নির্দেশিকা মেনে সমস্ত আইনি যুক্তি-সহ যথাসময়ে তিনি নোটিসের জবাব দেবেন।
এরপরই রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুর চড়িয়ে তিনি সরাসরি বালি, সোনা ও কয়লা পাচারের মতো গুরুতর দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা করেন। তাঁর কটাক্ষ, “এর আগে এ রাজ্যে বালি, সোনা বা কয়লা পাচার আমরা কখনও দেখিনি। এই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কারণেই আজ শাসকদলে ধস নেমেছে এবং উনি (মমতা) নিজে সেই ধসের চূড়ায় বসে আছেন।” রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে কাকলি অন্যতম। দলবদলের পর তাঁর এই প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক আক্রমণ উত্তর ২৪ পরগনার জেলা রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

