একদিনে জোড়া ইস্তফা, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলে আতঙ্ক
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইস্তফা দিলেন দুই পৌরসভার দুই পৌরপিতা। বহরমপুরের নাড়ুগোপাল মুখার্জির পর মুর্শিদাবাদ পৌরসভার পৌরপিতা ইন্দ্রজিৎ ধরও পদ ছাড়লেন।
প্রথম ধাক্কা বহরমপুরে। দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি মহকুমা শাসকের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন। দ্বিতীয় ধাক্কা মুর্শিদাবাদ পৌরসভায়। পৌরপিতা ইন্দ্রজিৎ ধর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
একই দিনে জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভার প্রধানের সরে যাওয়া নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
ভয়ের কারণেই এই ইস্তফা উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি একের পর এক তৃণমূল নেতা, মন্ত্রী গ্রেফতার হচ্ছেন। সেই আতঙ্কেই কি দলীয় নির্দেশে সরে দাঁড়ালেন পুরপ্রধানরা?
স্থানীয় সূত্র বলছে, দলের অন্দরে চাপা আতঙ্ক। হিসেব চাওয়া হবে, এই ভয়েই আগেভাগে সরে যাওয়া।
বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ইতিমধ্যেই ২০০৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পৌরসভার বিশেষ অডিট চেয়ে মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তার পরেই এই জোড়া ইস্তফা জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
কারা এই দুই পৌরপিতা?
প্রথম জন নাড়ুগোপাল মুখার্জি। ২০২২ সালের মার্চ থেকে বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান। ২০২১ ও ২০২৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে হেরেছেন। ২০২৬-এ তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
দ্বিতীয় জন ইন্দ্রজিৎ ধর। তিনিও মুর্শিদাবাদ পৌরসভার পৌরপিতা। ইস্তফার কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় বিজেপির কটাক্ষ, দুর্নীতির ভয়েই পালাচ্ছে তৃণমূল। জনগণের টাকার হিসেব দিতে হবে জেনেই ইস্তফার লাইন।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ নেই। ইন্দ্রজিৎ ধর সত্যিই অসুস্থ। নাড়ুগোপাল বাবু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়িয়েছেন। অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী দুই পৌরসভাতেই আপাতত ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব সামলাবেন। দ্রুত কাউন্সিলারদের বৈঠক ডেকে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে।
তবে একদিনে দুই পুরপ্রধানের ইস্তফা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। গ্রেফতার আতঙ্ক, অডিটের দাবি, তারপরেই ইস্তফা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি স্পষ্ট।

