পঞ্চমীতে স্কন্দমাতা
মা দুর্গার নয়টি রূপ—নবদুর্গা।শুক্ষপক্ষের প্রতিপদ থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত প্রতিদিন এক-এক রূপে মাকে দেখা হয়।শৈলপুত্রী,ব্রহ্মচারিণী,চন্দ্রঘন্টা,কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা,কাত্যায়নী, কালরাত্রি,মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী।নবদুর্গার পঞ্চম রূপ—স্কন্দমাতা। দেব সেনাপতি কার্তিকের অন্য নাম স্কন্দ। তাই স্কন্দমাতা হলেন কার্তিকের মা। পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি। মা এখানে সব শক্তির উৎস রূপে আবির্ভূতা। সাধনার পঞ্চম স্তরে সাধক ব্যক্তিমনকে সম্পূর্ণ অতিক্রম করে বিশ্ব মনে এসে গেছেন।সাধক অনুভব করেন চারিদিকে দিগন্ত বিস্তৃত বিশাল এক সত্তা। তিনি নিজেকেই অনুভব করেন এই বিশাল সত্তারূপে। তাঁর জাগতিক দেহ-মন-ইন্দ্রিয় বিলীন হয়ে গেছে,এক বিশাল সত্তা হয়ে গেছেন তিনি। নানান সূক্ষ্মতর শক্তি তাঁর আয়ত্বে।চতুর্থ স্তরে সাধক নানারকম বৃহৎ শক্তিকে অনুভব করলেও সেগুলির ওপর তার অধিকার আসেনি। এটা কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞান নয়। কারণ এখানে বিশ্বমনের অহং বোধ থেকে যায়;কেবল ব্যক্তিমনের অহং বোধকে অতিক্রম করেন। পঞ্চম স্তরে স্কন্দমাতা সাধককে এই অনুভব করান। মানুষ যে অসীম শক্তির অধিকারী,মা জগদীশ্বরীর ঐশ্বর্যে যে সন্তানেরও অধিকার আছে এটাই মা বুঝিয়ে দেন। মা জগদীশ্বরীর ঐশ্বর্যে যে সন্তানেরও অধিকার আছে, এটাই বুঝিয়ে দেন মা। তাই মাতৃ সাধক গিয়েছিলেন—এই সংসারে ডরি কারে, মা যার রাজরাজেশ্বরী।

