শিবজ্ঞানে জীবসেবা
সঙ্ঘগুরু (একাদশ)পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী গম্ভীরানন্দজী লিখছেন, শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের পর তিনি সুরেন্দ্রনাথ মিত্র মহাশয়কে দর্শন দিয়ে বলেছিলেন,"তুই করছিস কি? আমার ছেলেরা সব পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে—তার আগে একটা ভালো ব্যবস্থা কর।"তারই ফলে বরানগর মঠ গড়ে উঠেছিল। সুতরাং এ মঠ শ্রীরামকৃষ্ণ সংস্থাপিত। তাঁরই প্রেরণায়, তাঁরই উপদেশ অনুযায়ী, তাঁরই ইচ্ছা -অভিপ্রায় অনুযায়ী এ মঠ গড়ে উঠেছে। তথাপি আমাদের মনে আবার প্রশ্ন জাগে, একটা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই যে বিভিন্ন শাখা গড়ে উঠলো আর যে প্রতিষ্ঠানের ভেতর দিয়ে নানা রূপ কাজ চলতে লাগল, যাকে ইংরেজিতে এক কথায় বলে অর্গানাইজেশন, এই অর্গানাইজেশন টা কোথা থেকে এলো? এটা কি শ্রীরামকৃষ্ণ কল্পিত অথবা স্বামী বিবেকানন্দের স্বকপোলকল্পিত? আমরা জানতে পারি যে, স্বামীজীর নিজের ভেতরেও সন্দেহ ছিল, এভাবে অর্গানাইজেশন গড়ে তোলা উচিত হবে কিনা। প্রথম অবস্থাতে তিনি যখন আমেরিকাতে ছিলেন, তখন একদিন বলেছিলেন, "আমেরিকাতে এসে আমার জীবনে সর্বাধিক একটি প্রলোভনের ভিতর আমি পড়েছিলাম।"এক মহিলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, সুতরাং তিনি বুঝে ফেললেন যে এটা একটা প্রেমের ব্যাপার হবে। হঠাৎ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,"সে মেয়েটি কে, স্বামীজি?"স্বামীজি উত্তর দিলেন—"অর্গানাইজেশন"। এই যে প্রতিষ্ঠান অবলম্বন করে, একটা বিশেষ কেন্দ্রকে অবলম্বন করে, বিভিন্ন শাখার ভেতর দিয়ে কর্ম পরিচালনা করা—এই জিনিসটাই তাঁকে প্রলোভিত করেছিল। তারপর আমেরিকা থেকে ফিরে এসে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১ মে, শ্রীরামকৃষ্ণের ভাব প্রচারের জন্য,শিবজ্ঞানে জীব সেবার জন্য, রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজের হাতে। স্বামীজি লিখলেন, বহুজনহিতায় বহুজনসুখায়— এই ভাবধারার কথা। রামকৃষ্ণ মিশনের লক্ষ্য, মানুষের অন্তর্নিহিত আত্মশক্তির আবরণ উন্মোচন বা বিকাশ সাধনে সাহায্য করা। রামকৃষ্ণ সংঘ আসলে এক মহাশক্তি, বিপুল ভাবধারার প্রাণকেন্দ্র।

