তসলিমার বই “আজ আমার মেয়েবেলা”
কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। এই পর্বে আলোচনা করা হবে তাঁর লেখা বইগুলি নিয়ে। আজ আমার মেয়েবেলা।
বিশেষ প্রতিবেদন: পুরুষতন্ত্র ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক নারীর বেড়ে ওঠার সাহসী দলিলবাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'আমার মেয়েবেলা' আজও পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে লেখিকা তাঁর জন্ম (১৯৬২) থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ তাঁর শৈশব, কৈশোর ও বয়ঃসন্ধিকালের দিনগুলোর এক নির্মম ও বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত একটি রক্ষণশীল ও পচনশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একটি মেয়ের বড় হয়ে ওঠার কঠিন লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক দলিল এই গ্রন্থ।
লেখিকার বাবার কঠোর ও কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ এবং মায়ের ধর্মভীরু মানসিকতার পাশাপাশি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার ছবি এখানে স্পষ্ট। শৈশবে নিজের আপনজনদের দ্বারাই কীভাবে তিনি বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অকপটে লিখেছেন তসলিমা।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সেই উত্তাল সময়ে লেখিকার পরিবারের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ রয়েছে বইটিতে।
মুসলিম সমাজে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া পুরুষতান্ত্রিক নিয়ম, বৈষম্য এবং ধর্মীয় অন্ধত্বের বিরুদ্ধে ছোটবেলা থেকেই লেখিকার মনে যে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম হয়েছিল, তা এই বইয়ের মূল ভিত্তি। নিজের চারপাশের এই ধর্মান্ধতা ও লিঙ্গবৈষম্যই পরবর্তীতে তসলিমা নাসরিনকে একজন আপসহীন নারীবাদী ও বিদ্রোহী লেখক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সমাজ ও ধর্মের এই খোলামেলা ও নির্মম ব্যবচ্ছেদের কারণেই প্রকাশের পর পরই তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

