শ্রদ্ধারূপ মূল্যবান রত্ন
অশ্রদ্ধা মানুষের সমস্ত মানবিক মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করে ও তার আধ্যাত্মিক বিনাশ ডেকে আনে। আসলে যারা পরিপূর্ণ জড়বাদকে আশ্রয় করে সভ্যতার বিকাশ ঘটাতে চায় তাদের মধ্যেই এই অশ্রদ্ধার ভাব প্রবল হয়। এই অশ্রদ্ধা, সবকিছুর প্রতি নেতিবাচক অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টি মানুষের মধ্যে যখন বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন মানুষ আধ্যাত্মিকতায় দুর্বল হয়ে পড়ে। আধ্যাত্মিকতায় দুর্বল মানুষ জড়বস্তুর উপর নির্ভর করে এবং ইন্দ্রিয়-সুখের উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই মানুষগুলিই তখন বিশ্ব প্রকৃতির মধ্যে এবং সমস্ত মানুষের মধ্যে যে এক সনাতন দৈবী স্ফুলিঙ্গ বর্তমান তাকে ক্রমশ অবজ্ঞা করে চলে। আধ্যাত্মিকতা মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলিকে আত্তীকরণ করার শিক্ষা দেয়। কিন্তু যখনই মানুষ জড়বাদের ওপর এবং ইন্দ্রিয়-সুখের উপর অত্যাধিক নির্ভরশীল হয় তখন জীবনের অভিজ্ঞতাগুলি তার সত্তা-হরণ করে নেয়। এর ফলেই আসে অশ্রদ্ধা। তখন শ্রদ্ধারূপ মূল্যবান রত্নটি মানুষ হারিয়ে ফেলে এবং তার বিপরীত অশ্রদ্ধার শিকার হয়ে পড়ে। ইতিহাসের সমস্ত সভ্যতা গুলির দিকে তাকালে দেখা যায়, আধুনিক যুগের মতো অশ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এত ব্যাপকভাবে সমাজে কখনো ছড়িয়ে পড়ে নি। এখন দেখা যায় প্রত্যেক বুদ্ধিজীবী মানুষই যেন পুরোপুরি বা কিছুটা হলেও এই অশ্রদ্ধার ও অবজ্ঞার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেঁচে আছেন। এখন এই মনোভাব বাচ্চাদের মধ্যেও সংক্রামিত। কারণ প্রকৃত বিজ্ঞান ও ধর্মের পিছনে, প্রকৃত জ্ঞান-অন্বেষণের পিছনে যে শ্রদ্ধার প্রয়োজন, সেই শ্রদ্ধার আজ একান্ত অভাব। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মানুষের ভোগ বাসনাকে তীব্র করে তুলেছে, বুদ্ধি হয়ে উঠেছে তীক্ষ্ণ ও চতুর। ফলে সেই বুদ্ধি যে কোন বিশ্বাস, সে নিজের প্রতিই হোক বা অপরের প্রতি, তাকে নাড়িয়ে দিতে বা ধ্বংস করতে সক্ষম। সত্যকে সন্ধান করে যাবার প্রয়াসকে বিসর্জন দিয়ে বহু মানুষ নিজেকে বদ্ধ করেছে ইন্দ্রিয় সুখ নির্ভর জীবনে। ফলে জীবন পূর্ণ হয়ে গেছে বিরক্তি ও হতাশায়।

