বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

ঘামের নিজস্ব গন্ধ নেই! তবু ঘামে দুর্গন্ধ কেন? 

প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
ঘামের নিজস্ব গন্ধ নেই! তবু ঘামে দুর্গন্ধ কেন? 
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিবেদন: তীব্র দাবদাহ আর প্যাচপ্যাচে গরমে নাজেহাল আমজনতা। এই মরসুমে ট্রাম, বাস বা মেট্রোর ভিড়ে চড়লেই এক তীব্র অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় কমবেশি সকলকেই— তা হল শরীরের দুর্গন্ধ। বগল কিংবা পায়ের মোজা থেকে বেরোনো এই গন্ধ অনেকের কাছেই চরম লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই দুর্গন্ধের জন্য আপনার ঘাম আদতে দায়ীই নয়? সম্প্রতি সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এক চিকিৎসক এই রহস্যেরই খোলসা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ঘামের নিজস্ব কোনও গন্ধই থাকে না!

তা হলে এই তীব্র কটূ গন্ধের উৎস কোথায়? চিকিৎসকেরা আঙুল তুলছেন আমাদের ত্বকে বাসা বেঁধে থাকা কোটি কোটি ব্যাকটিরিয়ার দিকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, মানুষের শরীরে মূলত দু’ধরনের ঘর্মগ্রন্থি থাকে— ‘একরিন’ (Eccrine) এবং ‘অ্যাপোক্রিন’ (Apocrine)। সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকা একরিন গ্রন্থি থেকে মূলত জল এবং নুন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘাম সম্পূর্ণ গন্ধহীন।

আসল গোলমালটি পাকায় বগল বা কুঁচকির খাঁজে থাকা অ্যাপোক্রিন গ্রন্থিগুলি। বয়ঃসন্ধির পর এই গ্রন্থিগুলি সক্রিয় হয় এবং এগুলি থেকে প্রোটিন ও ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত এক প্রকার ঘন তরল বেরোয়। আমাদের ত্বকে স্বাভাবিক নিয়মেই কিছু ব্যাকটিরিয়া বসবাস করে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ব্যাকটিরিয়াগুলি যখনই অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিনকে ভাঙতে শুরু করে, তখনই এক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। আর তার ফলেই তৈরি হয় ওই তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ। অর্থাৎ, ঘাম আর ব্যাকটিরিয়ার যুগলবন্দিতেই এই বিপত্তি।

পায়ের মোজার গন্ধ কেন এতটা তীব্র? একই বিজ্ঞান কাজ করে পায়ের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘক্ষণ জুতো-মোজা পরে থাকার ফলে পায়ের পাতায় বাতাস ঢুকতে পারে না। ফলে সেখানে ঘাম জমে এক ধরনের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়। আর এই অন্ধকার ও আর্দ্র পরিবেশই হল ব্যাকটিরিয়া ও ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধির আদর্শ চারণভূমি। ব্যাকটিরিয়া যখন পায়ের পাতার মরা চামড়া ও ঘাম গ্রাস করতে শুরু করে, তখনই মোজা খুললে ওই পচা গন্ধ ছড়ায়।

মুক্তি মিলবে কীসে? এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন— গরমের দিনে নিয়মিত স্নান আবশ্যিক। বগল ও পায়ের মতো অংশগুলিতে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল সাবান ব্যবহার করা জরুরি।

 স্নানের পর শরীরের ভাঁজগুলি এবং পায়ের পাতা ভালো করে মুছে শুকনো রাখতে হবে। আর্দ্রতা থাকলেই ব্যাকটিরিয়া ছড়াবে।

গরমের দিনে সুতির হালকা পোশাক পরাই শ্রেয়। একই মোজা ধুয়ে না নিয়ে পর পর দু’দিন পরা চলবে না।

 সাধারণ ডিওডোরেন্ট কেবল সুগন্ধ ছড়ায়, ঘাম আটকায় না। চিকিৎসকদের মতে, ঘাম কমানোর জন্য ‘অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট’ ব্যবহার করা বেশি কার্যকরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের এই দুর্গন্ধ কোনও স্থায়ী রোগ নয়। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই প্যাচপ্যাচে গরমেও শরীরকে তরতাজা এবং গন্ধমুক্ত রাখা সম্ভব।

আরও জীবনযাপনের খবর