বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

টাক সমস্যার স্থায়ী মুক্তি: যেভাবে বদলাল হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬
টাক সমস্যার স্থায়ী মুক্তি: যেভাবে বদলাল হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার অবাধ্য চুলগুলোকে গোছাতে গিয়ে হঠাৎ থমকে যান অনেকেই। পুরনো অ্যালবামের ঘন কালো চুলের সেই যুবক বয়সের ছবির সঙ্গে বর্তমানের চওড়া টাকের তুলনা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলা মানুষের সংখ্যা আজ পৃথিবীতে কম নয়। চুল যে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের মাপকাঠি নয়, বরং একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে, তা আজ সর্বজনবিদিত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের এই মানসিক যন্ত্রণা ও চুল পড়ার চিরস্থায়ী সমাধান খুঁজতে খুঁজতেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে জন্ম নিয়েছে এক আধুনিক জাদুদণ্ড— ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট’ বা চুল প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ টাক পড়া রোধ করতে ভেষজ পাতার রস, রাসায়নিক প্রসাধনী থেকে শুরু করে নামী-দামী তেলের স্মরণাপন্ন হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুতেই যখন স্থায়ী ফল মেলেনি, তখনই বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেন শরীরের এক অংশের চুল অন্য অংশে প্রতিস্থাপন করার কথা। এই আধুনিক প্রযুক্তির শিকড় লুকিয়ে রয়েছে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। ১৯৩০-এর দশকে জাপানি চিকিৎসক ডা. ওকুদা প্রথমবার দুর্ঘটনা বা আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে চুল গজানোর জন্য ছোট ছোট ত্বকের অংশ প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা শুরু করে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে তাঁর সেই যুগান্তকারী গবেষণা আন্তর্জাতিক স্তরে আড়ালেই রয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীকালে ১৯৫০-এর দশকে আমেরিকার প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরম্যান অরেনট্রাইচ এই চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন। তিনি প্রথম প্রমাণ করে দেখান যে, মানুষের মাথার পেছনের অংশের চুল সাধারণত হরমোনের তারতম্য বা টাক পড়ার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। সেই পেছনের অংশের চুল বা ফলিকল যদি উপড়ে এনে টাক পড়া অংশে নিখুঁতভাবে রোপণ করা যায়, তবে সেটি সেখানেও নিজের আদি বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অসাধারণ তত্ত্বটিকেই বলা হয় ‘ডোনার ডমিন্যান্স’। আজ তারই উন্নত সংস্করণ FUE বা FUT প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ফিরে পাচ্ছেন তাঁদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস।

আরও জীবনযাপনের খবর