রাজ্য
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দেশের ‘চিকেনস নেক’
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তর-পূর্ব ভারত তথা গোটা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল করিডর ‘চিকেনস নেক’। এই করিডরের সুরক্ষাকে অভেদ্য করতে এবার বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বা থ্রি-টিয়ার সিকিউরিটি গ্রিড গড়ে তুলেছে কেন্দ্র। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবারও তাঁর নির্ধারিত বৈঠকে শিলিগুড়ি করিডরের এই সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা হতে পারে বলে খবর।
সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি এই মঞ্চ থেকে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ, সিএএ এবং নতুন ফৌজদারি আইন (বিএনএস) ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। অমিত শাহ চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত-পা ধরে আমরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তবুও তাঁর থেকে কোনও জমি মেলেনি।”
এর পরেই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন শাহ। তিনি জানান, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জমি জট কেটেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের এই অতিগুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে নতুন করে আরও ৫৬০ একর জমি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে ১,১২৯ একর জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শাহ স্পষ্ট করে দেন, চপড়া, কিষানগঞ্জ এবং ধুবড়ি— এই তিনটি প্রধান বেস বা ঘাঁটির মাধ্যমে পুরো শিলিগুড়ি করিডরের ওপর চব্বিশ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হবে। ড্রোন, এআই প্রযুক্তি এবং থার্মাল ইমেজিংয়ের মতো আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক সীমানা সুরক্ষিত রাখছে কেন্দ্র।

