রাজ্য
রণক্ষেত্র ধর্মতলা, কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনের আঁচ এবার কলকাতায়। একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির ধাঁচেই গতকাল কলকাতায় একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধর্মতলায় পৌঁছাতেই সেই মিছিল রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে জখম হন একাধিক পুলিশ কর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। গতকালের এই নজিরবিহীন অশান্তির জেরে আজ অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, গতকালের হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যেই মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চিহ্নিত হওয়া এই অভিযুক্তদের মধ্যে কেউই আসলে ছাত্র নন। এমনকি দেশজোড়া ‘নিট’ (NEET) আন্দোলনের সঙ্গেও এই বিক্ষোভকারীদের কোনওরকম যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
লালবাজার সূত্রে খবর, গতকালের এই তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মোট ৭টি মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে সেন্ট্রাল কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানাতেই দায়ের হয়েছে ছয়টি মামলা এবং অন্য একটি মামলা রুজু হয়েছে এন্টালি থানায়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই মামলাগুলিতে সম্প্রতি রাজ্যে পাশ হওয়া নতুন ‘গুন্ডাদমন আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যে এই প্রথমবার কোনও রাজনৈতিক বা নাগরিক আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া অশান্তিতে এই কড়া আইন প্রয়োগ করা হল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির জল যে কলকাতায় গড়াবে তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। তবে প্রথমবার গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে কলকাতায় কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বরদাস্ত করবে না তাঁর প্রশাসন। এই কড়া পদক্ষেপের পর কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

