অপশাসনেই নিমজ্জিত স্বাস্থ্য খাত, সুশাসন ফেরাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত সময়ের অপশাসনের কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত চরম দুর্নীতি ও অনিয়মে নিমজ্জিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন Sardar Md. Sakhawat Husain। তিনি বলেন, "বিগত দিনে জনগণের অর্থসম্পদ অবাধে লুটপাট ও অপচয় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছে।"
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা স্বাস্থ্য খাতের এই দুর্নীতির চক্র ভাঙতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ ও সক্রিয় আছি।"
রোববার ২৮ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা বলেন। মূলত নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর) সেবার মানোন্নয়ন এবং এই ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিআইবি একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে।
'স্ট্রেনদেনিং ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইন সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ হেলথ সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক এই নতুন প্রকল্পের পরিচিতি ও পরামর্শ কর্মশালা উপলক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাঠপর্যায়ে সহযোগিতার আশ্বাসটিআইবি-র এই নতুন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
বাজেটের সঠিক ব্যবহারের তাগিদঅনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সবসময়ই টিআইবির অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে খাতটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিন্নাত রেহানা। সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর ও নীলফামারী জেলার মোট ১৬টি নির্বাচিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে।

