বিদেশ
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বাংলায় ৫০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাম্প্রতিককালের তৈরি হওয়া তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি বা সীমান্ত পারের নানাবিধ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মেঘ কাটাতে ফের সেই চেনা ‘মিষ্টি কূটনীতি’ বা ‘আম-কূটনীতি’ (Mango Diplomacy)-র শরণ নিল বাংলাদেশ। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং মরশুমী শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য মোট ১,১০০ কেজি আম পাঠাল ঢাকা।
বাংলাদেশ সরকারের এই বিশেষ উপহারের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। জানা গিয়েছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মাধ্যমে মোট ১০০টি কার্টনে ৫০০ কেজি প্রিমিয়াম মানের আম এ রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কেজি আম নির্দিষ্ট করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জন্য। বাকি ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে ত্রিপুরার শীর্ষ নেতৃত্বের দরবারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা একে ‘আম-কূটনীতি’ বলে অবিহিত করছেন। অতীতেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলে তিস্তা বা সীমান্ত ইস্যুর জটিলতা কাটাতে শেখ হাসিনার সরকার পদ্মার ইলিশ কিংবা ওপার বাংলার বিখ্যাত হাড়িভাঙা ও ল্যাংড়া আম উপহার পাঠাত। এবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরের নানা মতপার্থক্যের আবহে দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এই ঐতিহ্যবাহী কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কলকাতার উপ-হাইকমিশন সূত্রে খবর, অত্যন্ত যত্ন সহকারে বাছাই করা সুস্বাদু ও সেরা মানের আম পাঠানো হয়েছে এবার। এই মিষ্টি উপহারের হাত ধরে দুই বাংলার প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক স্তরের তিক্ততা অনেকটাই কমবে এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদী দুই দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ।

