সহজে মোটা টাকা আয়ের হাতছানি নাকি সর্বনাশের মরণফাঁদ? যুবসমাজে বাড়ছে ‘কলবয়’ হওয়ার হিড়িক
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাইরে থেকে ঝাঁ-চকচকে জীবন, আর ভেতরে শুধুই অন্ধকার ও এক সর্বনাশা প্রতারণার জাল। বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং উচ্চশিক্ষিত যুবকদের মধ্যেও কর্মসংস্থানের চরম অভাবের সুযোগ নিয়ে সমাজ জুড়ে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে এক নতুন ব্যাধি। অল্প পরিশ্রমে দ্রুত এবং সহজে মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জনের আশায় এক শ্রেণির যুবসমাজের মধ্যে পুরুষ যৌনকর্মী বা 'কলবয়' (Call Boy) পেশার প্রতি ঝোঁক আশঙ্কাজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথাকথিত এই আকর্ষক পেশার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক আইনি জটিলতা এবং ব্ল্যাকমেইলের এক ভয়াবহ ফাঁদ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টেলিগ্রাম এবং বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপের পাতায় পাতায় এখন ছড়িয়ে রয়েছে ‘কলবয় জব’ (Call Boy Job) সংক্রান্ত প্রলোভনভরা বিজ্ঞাপন। সেখানে দাবি করা হয়, ধনী বা একাকী মহিলাদের সঙ্গ দিয়ে প্রতি রাতে বা প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। করোনাকালীন ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া তীব্র চাকরি সংকটের কারণে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বা বেকার যুবক এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রথমে এটিকে কেবল ‘পার্ট-টাইম’ বা খণ্ডকালীন কাজ মনে করা হলেও, ধীরে ধীরে তাঁরা এই অন্ধকার জগতের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই কলবয় চাকুরির আড়ালে আসলে চলছে এক বিশাল সাইবার প্রতারণার চক্র বা র্যাকেট। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলেই যুবকদের বলা হয় ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ বা ‘মেডিকেল টেস্ট’-এর নামে অগ্রিম কয়েক হাজার টাকা জমা দিতে। বেকার যুবকেরা ধারদেনা করে সেই টাকা জমা দেওয়ার পর শুরু হয় আসল খেলা। আরও বেশি টাকা উপার্জনের লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে যুবকদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তুলে নিয়ে পরবর্তীতে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্ল্যাকমেইল (Blackmail) করার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। লোকলজ্জা এবং আইনি ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী যুবকেরা পুলিশেও যেতে পারেন না।
আইনজীবীদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই আইনি পরিভাষায় এই ধরনের অনৈতিক দেহব্যবসা বা মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ। সহজে টাকা পাওয়ার মোহ যুবসমাজকে কেবল অপরাধের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে না, বরং তাঁদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যেরও অপূরণীয় ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচতে যুবসমাজকে দ্রুত সচেতন হতে হবে। কোনো ধরনের সাইবার বিজ্ঞাপন দেখে টাকা দেওয়ার আগে বা কোনো অচেনা সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

