বিদেশ
ন্যাটো সম্মেলনের আগেই কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত অন্তত ১০
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কে হাই-প্রোফাইল ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ঠিক তার আগেই সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। এই আকস্মিক ও তীব্র বিমান হামলায় কিয়েভে অন্তত ১০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত থেকেই কিয়েভের আকাশজুড়ে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলায় রাজধানীর পোডিলস্কি (Podilskyi) এবং ডার্নিটসিয়া (Darnytsia) জেলার বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো (Vitali Klitschko) জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে শহরের একাধিক আবাসন ও পরিকাঠামোয় আগুন লেগে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল এবং দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে বহু সাধারণ মানুষকে শহরের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে দেখা গিয়েছে।
তুরস্কের আঙ্কারায় ৭ ও ৮ জুলাই তারিখের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে এই হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপস্থিত থাকার কথা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটো জোটের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতেই মস্কো কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছে অবিলম্বে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল’ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

