বিদেশ
খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীর বদলে ভারত পাঠাচ্ছে দুই প্রতিনিধি, আমন্ত্রণ কংগ্রেসকেও
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিমানহানায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের Ali Khamenei রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তেহরানের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কূটনৈতিক ভারসাম্য ও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারত সেখানে সরকারি প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সরকার দিনকয়েক আগে স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীকে আমন্ত্রণ ইরানের! তবে মোদী নিজে না গেলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে, যা ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সরকারি স্তরে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি পেজেশকিয়ান সরকার ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের তিন শীর্ষ নেতাকেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমানহানায় প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সি আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ইসলামি রীতি অনুযায়ী দ্রুত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ নিরাপত্তা পর্যালোচনার কারণে তাঁর মরদেহ বিগত চার মাস ধরে বিশেষ কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়েছিল। অবশেষে জুলাই মাসের শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর এক দীর্ঘমেয়াদি শেষকৃত্য প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে ইরান সরকার।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বহুস্তরীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি বেশ কয়েক দিন ধরে তেহরান, কোম এবং ইরাকের কিছু পবিত্র শহর ঘুরে অবশেষে খামেনেইয়ের জন্মস্থান মাশহাদে গিয়ে সম্পন্ন হবে। তেহরানের অনুমান, এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকবে।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনার আবহে ভারতের এই ভারসাম্যের কূটনীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। একদিকে দিল্লির সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দরসহ একাধিক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ— এই দুইয়ের মেলবন্ধন বজায় রাখতেই মোদীর পরিবর্তে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ও একজন প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তিত্ব তথা রাজ্যপালকে বেছে নিয়েছে সাউথ ব্লক।

