বিদেশ
১১ বছরের বালকের গাড়ির ধাক্কায় মৃত ৮ ভিক্ষু
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে কোনও অভিজ্ঞ বা প্রাপ্তবয়স্ক চালক ছিল না। বাবা-মায়ের নজর এড়িয়ে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিল ১১ বছরের এক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) বালক। আর তার পরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো পথ দুর্ঘটনা। অনিয়ন্ত্রিত সেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ৮ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু। বৃহস্পতিবার সকালে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশের মুয়াং জেলার না সি নুয়ান গ্রামের একটি সড়কে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকদাহান প্রদেশের একটি মন্দির থেকে ৩৫ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং ৫ জন সাধারণ অনুগামীর একটি দল পায়ে হেঁটে পার্শ্ববর্তী উবোন রাতচাথানি প্রদেশের দিকে তীর্থযাত্রায় রওনা হয়েছিলেন। যাত্রা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় পেছন থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে একটি পিকআপ ভ্যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি সরাসরি ধাক্কা মারে ওই পদযাত্রায়। সজোরে ধাক্কার অভিঘাতে বেশ কয়েকজন ভিক্ষু ছিটকে পড়েন রাস্তার ধারে। ঘটনাস্থলেই ৫ জন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৩ জন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মুকদাহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ১১ বছরের বালকটি অসুস্থতার কারণে এদিন স্কুলে যায়নি এবং বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বাবা-মায়ের গাড়িটি নিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার চালিয়ে চলে আসে। গাড়িটি নিখোঁজ দেখে অভিভাবকেরা পুলিশে খবর দিলেও ততক্ষণে এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে যায়।
থাইল্যান্ডের মুকদাহান প্রদেশের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুত্রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বালকটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সে নিজেও অত্যন্ত আতঙ্কের (শক) মধ্যে থাকায় এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। দেশের শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা থাইল্যান্ড জুড়ে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সড়ক নিরাপত্তা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে গাড়ির চাবি দেওয়া রুখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

