বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

লক্ষ্য খণ্ডিত মুক্তি নয়

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬
লক্ষ্য খণ্ডিত মুক্তি নয়
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

ভারত সংস্কৃতির লক্ষ্য—মুক্তি ,শান্তি, আনন্দ, প্রেম, ঐক্য ও স্বাধীনতা। এই মুক্তি সার্বিক মুক্তি। এর মধ্যে খণ্ড নেই। অন্যান্য জাতি যেমন কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বা সামাজিক স্বাধীনতাতে তুষ্ট থাকে, ভারত কিন্তু তাকে তৃপ্ত নয়। কারণ একমাত্র ভারতই জেনেছে যে ঐরূপ খন্ডিত স্বাধীনতা মানুষের বন্ধন বা দুর্বলতাকে ধ্বংস করতে পারে না। দৈহিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক—সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতাই ভারত সংস্কৃতির মূল মন্ত্র। আর এই অখণ্ড পূর্ণ স্বাধীনতার জয়গান বিভিন্ন সুরে-ছন্দে গীত হয়েছে উপনিষদে। উপনিষদে ভয়ের ধর্ম নেই ; উপনিষদের ধর্ম প্রেমের, জ্ঞানের। মানবমহিমার এত উচ্চাসন পৃথিবীর আর কোন সংস্কৃতি দেখাতে পারেনি। ভারত-সংস্কৃতি দেখিয়েছে প্রকৃত শ্বাশ্বত শান্তির পথ। সামরিক শান্তি বা চুক্তির দ্বারা শান্তিতে ভারত কোনো দিন বিশ্বাসী নয়। উপনিষদের ঋষিরা  প্রকৃত শান্তিলাভ করে বলেছেন, সর্বভূতের অন্তরাত্মা সকলের নিয়ন্তা হয়ে যে অদ্বিতীয় আত্মা একরূপকে বহুধা বিভক্ত করেন, এবং সকল অনিত্য বস্তুর যিনি শাশ্বত কারণ শক্তি, সচেতনদেরও তিনি চৈতন্যস্বরূপ, যিনি অদ্বিতীয় হয়ে মানুষের কর্মফল বিধান করেন, সেই সত্তাকে যে ধীমান উপলব্ধি করে তারই শাশ্বত শান্তি হয় , অপর কারো নয়। তেষাং শান্তিঃ শাশ্বতী ন ইতরেষাম্। ভারতীয় সংস্কৃতি কোনদিন ইন্দ্রিয়সুখকে গুরুত্ব দেয়নি। সে বরণ করেছে স্বর্গীয় আনন্দকে। ভারত অল্প সুখের কাঙাল নয়, সে চেয়েছে ভূমা-সুখকে। জাগতিক আনন্দকে অস্বীকার করে ভারত সবাইকে গিরি গুহাবাসী হতে বলেনি। কিন্তু ভারত লৌকিক জগতের ভোগকে পরম পুরুষার্থ বলে গ্রহণও করেনি। সে তপস্যার বলে জেনেছে এই জগতের সুখভোগ সীমিত। এ সুখ অখণ্ড সচ্চিদানন্দের ছিটেফোঁটা মাত্র। আত্মানং বিদ্ধি অর্থাৎ নিজেকে জানো। মানুষ যেদিন তার যথার্থ স্বরূপ জানতে পারবে সেদিনই সব জানা হয়ে যাবে। এই পূর্ণতার সাধনায় সিদ্ধি লাভ করলে মানুষ সব সংকীর্ণতার ও অল্পতার পারে গিয়ে অমর হয়ে যাবে।

আরও বোধিবৃক্ষ খবর