সেবার তীর্থযাত্রী
১৮৮২, ১লা জুলাই আসা, ১৯৬২, ১লা জুলাই যাওয়া। মাঝে থাকলো এক কর্মদীপ্ত জীবনের কর্তব্যপরায়ণতা ও কর্মনিষ্ঠার বিশাল ইতিহাস। তাঁর কথায় — সেবাই মানুষের পরম সাধন। আমি দীনের সেবার তীর্থযাত্রী। আমার দৃঢ় ধারণা, শান্তির পথ ছাড়া অন্য কোন উপায়ে এই সেবাকাজের নীতি সার্থক হতে পারে না। ফুসফুস হৃৎপিণ্ড মস্তিষ্ক সকলেই যদি বলে আমি বড়,আর সকলে কিছু নয়,তাহলে শরীর হয় রোগের আকর। ফুল,ফল,পত্র,কাণ্ড কিংবা আকাশের গ্ৰহ-নক্ষত্র প্রত্যেকেই যদি বলে আমি বড়, তুমি ছোট তাহলে সৃষ্টিতে বিপর্যয় ঘটে। সব ভাবের মধ্যে যদি সামঞ্জস্য সাধন করতে না পারি তাহলে বিপদ অনিবার্য। আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এ বিষয়ে গুরুত্ব সমধিক। সেবার কাজে সম্মিলিত হতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন শান্তির। স্বাধীনতালাভকে যদি গভীর ভিত্তির উপর স্থাপন করতে চাই, তাহলে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থিতির নীতি অনুসরণ করতে হবে। আমি ছাড়া আর একজনও আছে ভাবতে পারব না? সকলের কষ্টকে আমার কষ্ট বলে যদি না ভাবি, তাহলে আমি সার্থক চিকিৎসা করতে পারব না। জীবনে যত সমস্যা যত প্রশ্ন আসে, আমাকে ভাবতে হবে, আমি যদি অনুরূপ অবস্থায় পড়তাম তাহলে কি করতাম। তাঁর জন্মদিনে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়, আজ এই জন্মদিনে কি চিন্তা তাঁর মনে সর্বাধিক উদয় হচ্ছে। উত্তরে তিনি জানান, "ঈশ্বর আমার জীবনের মেয়াদ আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি এই কামনা করি যে তার দেওয়া কর্তব্যভার যেন উপযুক্ত ভাবে পালন করতে পারি । তিনি বাঙালি সম্পর্কে এই মন্তব্যও করেন যে, আমাদের একটি প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে আমাদের উদ্যম আত্মপ্রত্যয় এবং চিন্তাশক্তিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেই ব্যক্তিই মুখ্যমন্ত্রীর রূপে সফল হতে পারেন যিনি নিজের মন্ত্রীমন্ডলীকে কখনোই এটা স্মরণ করিয়ে দেবেন না যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা লাভ করবেন। যতদিন তিনি এইভাবে চলবেন ততদিন তার মন্ত্রীমন্ডলী যৌথদায়িত্বের নীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবেন।

