সব কর্মই আসলে জ্ঞান
একজন ঘোর বিষয়ী মানুষ, সারাজীবন শুধু নিজের সংসার নিয়েই কাটিয়ে দিল। স্ত্রী-সন্তান আর নিজের বৃত্তের বাইরে কাউকে নিয়ে ভাবতে শেখেনি। একদিন মৃত্যুর দূত এসে দাঁড়াল তার সামনে। মৃত্যু দূত বলছে, ওঠো এবার যেতে হবে, তোমার মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ? আমাকে এখনই যেতে হবে? তাহলে আমার জিনিসপত্রগুলোর কী হবে? আমার দামী প্রাসাদ, বিলাসবহুল গাড়ি, মোটা অঙ্কের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, ভরি ভরি নয়, কেজি কেজি সোনাদানা — এগুলোর কী হবে? ওগুলো তোমার নয়, পৃথিবীর, পৃথিবীতেই থাকবে। তাহলে আমার চিন্তা ভাবনা,এত প্রতিভা, ক্ষুরধার বুদ্ধি — এসবও কী আমার নয়? না, ওগুলির মালিক "কাল", এগুলি পরিস্থিতির অধীন। তাহলে যাদের জন্য আমি দিনরাত ব্যয় করলাম- স্ত্রী, সন্তান, বন্ধুবান্ধব? ওরা তো তোমার পথের সঙ্গী। চলার সময় সব জুটেছে। পথ তো পৃথিবীর। তুমি তো ওই পথ ছেড়ে অন্য পথে যাবে। আর আমার এত সাধের শরীর? ওটাতো কয়েকমুষ্টি ধুলি। ওর পরিণাম- পঞ্চভূতে মিলিয়ে যায়। তাহলে আমার আত্মা? তার কি হবে? সেটিই তো নিতে এসেছি। সেটি আমার। কিন্তু আমারই তো আত্মা? হ্যাঁ, তোমার আত্মা কিন্তু এখন এটাই আমার অধীন। আসলে কর্ম এবং কর্ম থেকে উদ্ভুত জ্ঞানই তোমার আত্মাকে উন্নত করে। সব কর্ম আসলে জ্ঞানে পর্যবসিত হয়। তুমি যদি সচেতন হয়ে কর্ম না কর তবে তোমার এই আত্মা পরবর্তী জন্মে যে দেহ গ্ৰহণ করবে তা দুঃখময় হবে। তুমি যে সুখ-দুঃখ পাও তা তোমারই কর্মজাত। তোমার আত্মাকে আবার কর্মফল ভোগ করার জন্য পৃথিবীতে পাঠাব। আরও উন্নত জীবনের জন্য অথবা আরও অবনমনও হতে পারে। আসলে কাজ তুমিই করো, আমি কেবল কর্মফল ভাগবাটোয়ারা করে দিই। শেষে মুক্ত হবে, তখন আর জন্মমৃত্যুর আবর্তে পড়তে হবে না। সেই অবস্থার নামই তো বুদ্ধ। তুমি বুদ্ধ হবে।

