আত্মঘাতী কে ও কেন?
কয়েক হাজার বছর পূর্ব থেকেই আমাদের দেশে মানুষের আত্মাকে জানবার প্রয়োজনীয়তা ও সার্থকতা বহুভাবে আলোচিত হয়েছে। সেই সকল আলোচনা বেদের উপনিষদ ভাগে লিপিবদ্ধ আছে। উপনিষদের অপর নাম আত্মবিদ্যা। ঈশোপনিষৎ বলছেন —যারা আত্মার চিরমুক্ত চিরস্বচ্ছ শাশ্বত সত্যকে জানল না তারা আত্মঘাতী। তাদের দুঃখের সীমা নেই। বারবার জন্ম মৃত্যুর অধীন হয়ে অজ্ঞানে আবৃত নানা দেহ ধারণ করে তাদেরকে শোক মোহ ভয়ের অধীন হতে হবে। বালক নচিকেতা মৃত্যুপতি যমকে প্রশ্ন করলেন—মানুষের দেহের অতিরিক্ত কোন শাশ্বত পরিচয় আছে কিনা? যম নচিকেতাকে বালক মনে করে এটা ওটা দিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করলেন। বললেন তুমি ছেলেমানুষ। এই গম্ভীর চরম প্রশ্নের উত্তর তোমার বোধগম্য হবেনা। তুমি বরং মানুষের অভীপ্সিত অন্য কিছু প্রার্থনা করো যেমন- হাতি ঘোড়া, দাসদাসী, দীর্ঘ পরমায়ু, বৃহৎ পরিবার, প্রচুর ধনসম্পত্তি, ভোগের নানা দুর্লভ উপকরণ। নচিকেতা কিন্তু ভুলবার পাত্র নয়। নচিকেতা বললেন ঠাকুর, ওসব দিয়ে কি করব? বহু জন্ম ওসব ভোগ করেছি। ওসকলের মর্ম জানা আছে। ওইসব ভোগে তৃষ্ণার আগুন আরও জ্বলে ওঠে। মন প্রাণকে সন্তপ্ত করে। আমি চাই অক্ষয় পরিতৃপ্তি অনন্ত শান্তি। তা শুধু আমার নিজের স্বরূপের আবিষ্কারেই সম্ভবপর। সেই সর্বভয়াতীত, সকল ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে অবস্থিত জন্মহীন মৃত্যুহীন আত্মার রহস্য আমাকে বলুন। অবশেষে যম নচিকেতাকে আত্মবিদ্যার উপদেশ দিলেন। যমরাজের নিকট নচিকেতা এই আত্মবিদ্যা এবং তার বিশদ অভ্যাস কৌশল লাভ করে বৃহত্তম সত্য বা ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আত্মাই অমৃতত্বের সেতু। আত্মা কে লাভ করে সত্যদ্রষ্টা ঋষিরা জ্ঞানতৃপ্ত, চিরশান্ত ও কৃতকৃতার্থ হয়ে যান। তাদের চিত্ত থেকে সকল আসক্তি চলে যায়।

