বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

নিজের ক্ষুদ্রতাকে জয়

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজের ক্ষুদ্রতাকে জয়
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

সর্বদা অপরের দোষ খোঁজা অনেকের স্বভাব হয়ে যায়। এই ভাব সব গুণকে ঘৃণার চোখে দেখে। যারা জড়পদার্থ ও দৈহিক ভোগসুখের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করে তাদের জীবনের উন্নতির অগ্ৰগতির স্রোত বিপথে চলে যায় এবং এই অগ্ৰগতি স্রোতহীন ডোবায় হারিয়ে যায়। এই ডোবার মতো আত্মকেন্দ্রিক মানুষের ব্যক্তিত্বকে ব্যক্তিত্বই বলা যায় না। বিখ্যাত দার্শনিক বার্নার্ড শ এর কথায় এই ব্যক্তিত্ব কেবল জমাট বাঁধা রোগ যন্ত্রণা আর দুঃখ কষ্ট, আর চিরন্তন নালিশ—যে জগৎ তোমাকে সুখে রাখতে একটুও ব্যস্ত নয়। প্রাচীন সভ্যতায় দোষ দর্শন কেবল একটা বাহ্যিক ভাব রূপেই থাকতো। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনে নানা বাধার সামনে পড়ে আর জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নর নারীর দোষ দৃষ্টি গড়ে ওঠে। কিন্তু জীবনের গোড়ার দিকে এই ভাব প্রায় দেখা যেত না। আর আধুনিক যুগে এই ভাবই সব ভাবের কেন্দ্রে থেকে, সব বয়সের মানুষকে পীড়ন করছে। সদ্য যুবা থেকে শুরু করে দাম্ভিক বুদ্ধিজীবী এবং লাঠির উপর নির্ভর করে চলা বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলকেই এই ভাব গ্রাস করেছে। এটিই হলো সভ্যতার অধঃপতনের সূচক। যখন মানুষ নিজের উপর বিশ্বাস হারায়, তখন সে সকলের ও সবকিছুর উপরেও বিশ্বাস হারায়। এর ফলে সামগ্রিক অধোগতির দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই আমাদের দেশে আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা ধীরে ধীরে কমেছে আর ভয়ানক দোষদর্শন রোগের আক্রমণ বেড়ে চলেছে। এটি আসলে একটি মানসিক রোগ। একে রোগ হিসেবে দেখে নির্মূল করার ব্যবস্থা না করলে আমাদের সমাজের কোন আশা নেই। আমরা নানা রকম শারীরিক রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। কিন্তু এর থেকেও আরও বেশি প্রয়োজন হল এই মানুষের হৃদয়ের অবক্ষয়কারী মারাত্মক দোষদর্শন রোগের জীবাণুকে নির্মূল করা। এটি সম্ভব একমাত্র আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যমেই। মানুষ তার ইন্দ্রিয় ভোগবৃত্তির টানে, সত্যের ও ন্যায়ের পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়। সে তখন তার প্রকৃত আধ্যাত্মিক স্বরূপ সম্বন্ধে অজ্ঞ থাকে। একজন মানুষ যতই নিজের আধ্যাত্মিক স্বরূপ সম্বন্ধে আরও বেশি করে জানতে পারবে সে ততই নিম্নতর ভোগবৃত্তির জন্য উত্তেজনা গুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখবে এবং সত্যে প্রতিষ্ঠিত ন্যায় পরায়ণ জীবন যাপন করতে থাকবে। মহাভারতে বলা হয়েছে, কাম ভয় লোভ কোন কিছুর জন্যই মানুষ যেন ধর্ম পরিত্যাগ না করে। এখানে ধর্ম মানে হিন্দু ধর্ম , ইসলাম ধর্ম নয়, এখানে ধর্ম হলো মনুষ্যত্বের ধর্ম। যে মনুষ্যত্ব বা মানুষের ধর্ম থাকলে একজন মানুষ হিংসা, ক্রোধ , ঈর্ষা, অহঙ্কার, দর্প , লোভ ইত্যাদি ত্যাগ করে সকল মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসতে পারে। এখানে ধর্ম মানে হৃদয়কে সংকুচিত করা নয়, স্বার্থপরতার বেড়াজালে নিজেকে বেঁধে ফেলা নয়, এখানে ধর্ম মানে হৃদয়ের প্রসারতা, নিজের ক্ষুদ্রতাকে জয় করে বিরাটত্বে পৌঁছানো, মনুষ্যত্ব থেকে দেবত্বে উন্নীত হওয়া। এখানে ধর্ম মানে— না জানার অন্ধকার থেকে জানার আলোকে পৌঁছানো।

আরও বোধিবৃক্ষ খবর