ধন রক্ষার ভয়
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বললেন, দিন-রাত্রি অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই নিজের আয়ুও ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এইটা জেনে বিচারশীল মানুষ বিষয়াসক্তি ত্যাগ করে, পরমাত্মাকে উপলব্ধি করে শান্তি লাভ করে। উদ্ধব সাধারণ মানুষের হয়ে প্রশ্ন করলেন, প্রভু যারা একান্তভাবে আপনার শ্রীচরণকেই আশ্রয় করেছে তারা রাগ দ্বেষ ভুলে, সুখ-দুঃখে মান-অপমানে সমচিত্ত হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে অপমান সহ্য করে অন্যায়ের প্রতিকার না করে থাকা সম্ভব হয় না। অতএব আপনি আমায় বলুন কি করে দুর্জনের অত্যাচার সহ্য করে, কোন রকম প্রতিকারের চেষ্টা না করে থাকা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ সদসৎ বিচারের দ্বারা মনকে স্থির রেখে অন্যায় অবিচার সহ্য করার উপায় বলেছেন। এই সম্পর্কে শ্রীকৃষ্ণ একটি গল্প বলেছেন : একজন কৃপণ, লোভী এবং ক্রোধী ব্রাহ্মণ কৃপণতার জন্য সে নিজের স্ত্রী-পুত্র, আত্মীয়-স্বজনদের যথাযথ খাবার এবং বস্ত্রাদি দিত না। নিজেও ভালো না খেয়ে, ভালো না পরে কষ্টে জীবন কাটাতো। তার বাড়িতে অতিথি সেবা এবং ধর্ম কর্মের কোন বালাই ছিল না। ফলে আত্মীয়-স্বজনেরা এবং অপর সকলে তার উপর রেগে ছিল। একসময় কোন দৈব-দুর্বিপাকে জ্ঞাতিরা তার সমস্ত সম্পত্তি কেড়ে নিল, বাকি যা ছিল চোর ডাকাতেরা লুট করে নিল। তখন একেবারে নিঃস্ব হয়ে, আত্মীয় পরিজনের কাছ থেকে পরিত্যক্ত হয়ে সেই কৃপণ ব্রাহ্মণ অত্যন্ত কষ্টে এবং চিন্তায় জর্জরিত হয়ে পড়ল। এভাবে দুঃখ ভোগ করার পর তার মনে তীব্র বৈরাগ্য এলো। এতদিনে সে ভাবতে পারলো, এত কষ্ট করে যে অর্থ আমি উপার্জন করেছি, পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করে জায়গা জমি বাড়িয়েছি, তাতো আমার ভোগে লাগলো না এবং কোন ধর্ম কাজেও তা ব্যয় হলো না। এই জীবনে আমার কোন সুখই হলো না এবং ধর্ম পথে না থেকে পরজীবনেও আমার নরকবাস অবধারিত। এতদিনে সে বুঝলো লোভ মানুষের সকল গুণকেই নষ্ট করে দেয়। বহু কষ্ট করে অপরকে ঠকিয়ে যে ধন উপার্জন করে, সেই ধন রক্ষা করতে অনেক রকমের চিন্তা এবং ভয় এসে উপস্থিত হয়। এই ধনের জন্য আত্মীয়-স্বজনেরা শত্রু হয়ে যায়। এই ভাবনা থেকেই সেই কৃপণ ব্রাহ্মণের বৈরাগ্য এলো।

