সংসারের একি খেলা!
সকল বিষয়ে সংযম করতে করতে ভগবানের দয়া হয়। সংযম না করলে কিছুই হয় না। আপন খেয়ালে চললে মানুষ বিগড়ে যায়। ভগবানের বা সাধুসজ্জনের উপদেশ মতো চললে মানুষ বেঁচে যায়। সৎসঙ্গের এমনই মাহাত্ম্য যে, কীটও নারায়ণের মাথায় ওঠে, কারণ সে ফুলের সঙ্গে থাকে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলছেন সৎসঙ্গ করো। সৎসঙ্গে ভগবানের দয়া লাভ হয়। শাস্ত্রে মন্ত্র তো অনেক লেখা আছে। তাতে কি হবে? মহাপুরুষদের নিকট ঠিক ঠিক উপদেশ গ্রহণ করলে জীবন মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন—যদি আমার উপদেশ ঠিক ঠিক গ্রহণ করো তাহলে তুমি বেঁচে যাবে। এতে যদি সংশয় হয় তাহলে সাধুসঙ্গ কর বুঝতে পারবে। মুক্ত আত্মাকে, পবিত্র আত্মাকে ভগবান ভালোবাসেন। ভগবান বলছেন—হে জীব! যে আত্মা আমাকে(পরমাত্মাকে) জানে তার সঙ্গ করো, যে আমায় না জানে তার সঙ্গ করো না। ভগবান বলছেন—নির্বোধেরা দোষকে গুণ দেখে, আর গুণ কে দোষ দেখে। এই হল সংসারের খেলা। এইজন্য সৎসঙ্গের দরকার। এইটি বিচার করে নেওয়া উচিত। সৎ বুদ্ধি হলেই ভগবানকে মানবে, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি হবে। অসৎ বুদ্ধি হলে নিজের মেজাজ খারাপ হয়, অহঙ্কার হয়, নিজে কষ্ট পায়। জীবনে অনেক ঢেউ আসবে—কখনো অবিশ্বাস, কখনো নাস্তিকতা, কখনো হতাশ ভাব। কিন্তু খুব সাবধান গুরুদত্ত নামটি ছেড়ো না। তিনি নিরাকার তো আছেনই , সাকারও আছেন। ভগবানের নাম গুণগান সাধুসঙ্গ ধ্যান জপ ইত্যাদি করলে সংস্কার চলে যায়। সাধুজীবনকে দেখলে জীবনের উদ্দেশ্য কি বুঝতে পারা যায়। বুঝতে পারলেই আর কিছু গোল থাকে না, দ্বেষ-হিংসা দূরে গিয়ে মনটা বড় হয়। ভগবান জীবকে শক্তি দিয়েছেন। ওই শক্তি যে সৎ দিকে নিয়ে যায় সে সৎ হয় আর যে ওই শক্তি অসৎ দিকে নিয়ে যায় সে অসৎ হয়। বিদ্যাশিক্ষা করা ভালো। কিন্তু শুধু বই পড়ে বড় বড় কথা বললে হয় না, তোমার কি অনুভব হয়েছে সেটা আগে বল। সাধন ভজন না থাকলে বিদ্যাই অবিদ্যা হয়ে যায়। নির্জনে একা সাধন ভজন করতে হয়। অধিক লোকের মধ্যে সাধন ভজন হয় না। সাধু ভক্ত ধনী ও দোকানদার—এরা সব ঠাকুর দেবতার ফটো রাখে। সাধু ও ভক্ত সেই ফটো পূজা করে অর্থাৎ সেই চিত্রের ভাব হৃদয়ে ধারণ করে জ্ঞানভক্তি লাভ করে এবং জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ঈশ্বর লাভ করে কৃতার্থ হয়। আর অন্যেরা লৌকিক কিছু পাবার আশায় ছবি সাজিয়ে রাখে। একই জিনিস ব্যবহার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফল দিচ্ছে। জিনিসের প্রকৃত ব্যবহার শিখতে হলে সাধু সঙ্গ করতে হয়। সৎ চিন্তার ফল সৎই হয়ে থাকে।

