শ্রীঅরবিন্দের রামকৃষ্ণ
শ্রীঅরবিন্দ লিখেছেন, ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের উক্তি ও তাঁর সম্বন্ধে যে সমস্ত পুস্তক রচিত হয়েছে তা পাঠ করে জানা যায় যে, দেশে যে নতুন ভাব গঠিত হয়েছে,যে ভাবরাশি সমগ্ৰ ভারতবর্ষকে প্লাবিত করে ফেলছে, যে ভাবতরঙ্গে মত্ত হয়ে কত যুবক সমস্ত তুচ্ছ করে আত্মাহুতি প্রদান করছে, সে ভাবের কথা তিনি কিছুই বলেন নি। একথা কিরূপে বিশ্বাস করতে পারি ? যাঁর পাদস্পর্শে পৃথিবীতে সত্য যুগ আনয়ন করেছে, যার স্পর্শে ধরণী সুখমগ্না, যাঁর আবির্ভাবে বহুযুগ সঞ্চিত তমোভাব বিদূরিত, যে শক্তির সামান্য মাত্র উন্মেষে দিগন্তব্যাপিনী প্রতিধ্বনি জাগরিতা হয়েছে, যিনি পূর্ণ, যিনি যুগধর্ম প্রবর্তক, যিনি অতীত অবতারগণের সমষ্টি স্বরূপ, তিনি ভবিষ্যৎ ভারত দেখেননি বা সেই সম্বন্ধে কিছু বলেননি এ কথা আমরা বিশ্বাস করি না। আমাদের বিশ্বাস, যা তিনি মুখে বলেননি, তা তিনি কাজে করে গেছেন। তিনি ভবিষ্যৎ ভারতকে, ভবিষ্যৎ ভারতের প্রতিনিধিকে আপন সম্মুখে বসিয়ে গঠিত করে গেছেন। এই ভবিষ্যৎ ভারতের প্রতিনিধি স্বামী বিবেকানন্দ। অনেকে মনে করেন যে স্বামী বিবেকানন্দের স্বদেশপ্রেমিকতা তাঁর নিজের দান। কিন্তু সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখলে বুঝতে পারা যায় যে তাঁর স্বদেশপ্রেমিকতা তাঁর পূজ্যপাদ গুরুদেবেরই দান। স্বামী বিবেকানন্দও নিজের বলে কিছু দাবী করেন নি। লোকগুরু তাঁকে যেভাবে গঠিত করেছিলেন সেটিই ভবিষ্যৎ ভারতকে গঠিত করার উৎকৃষ্ট পন্থা। তাঁকে তিনি সম্পূর্ণ বীরসাধক ভাবে গঠন করেছিলেন। তিনি জন্ম থেকেই বীর, এটাই তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভাব। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে বলতেন, তুই যে বীর রে! তিনি জানতেন যে তাঁর ভিতরে যে শক্তি সঞ্চার করে যাচ্ছেন কালে সেই শক্তির উদ্ভিন্ন ছটায় দেশ প্রখর সূর্য্যকর জালে আবৃত হবে। আমাদের যুবকগণকেও এই বীরভাবে সাধন করতে হবে।

