লোকব্যবহার ও জীবনচর্যা
সংযম কাকে বলে এই প্রসঙ্গে স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজ বলছেন, কারো অনিষ্ট চিন্তা করব না। সত্যকে ধরে থাকব। কাউকে প্রবঞ্চনা করব না। ইন্দ্রিয়গুলি বশে রাখব। বিলাসিতা বর্জন করে সাদাসিধে অনাড়ম্বর জীবন যাপন করব—এই হচ্ছে সংযম। এই নিয়মগুলি পালন না করে শুধু জপ করলে কী হবে? জীবনে সত্যের বালাই নেই, অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করব, আর মুখে বলব ইন্দ্রিয়গুলিকে ছুটি দিয়ে দিই, তাহলে কি ছুটি হবে? ভোগবিলাসের শেষ নেই, কোটি কোটি টাকার মালিক হবার লক্ষ্য নিয়ে শুধু যদি জপ করি তাহলে কি মুক্তি হবে? জীবনকে শুচিশুদ্ধ করে তুলতে হবে। বিষয়সম্পদ থেকে মনকে প্রত্যাহার করতে হবে। এসব একদিনে হবে না, হওয়ার নয়, ক্রমাগত অভ্যাস ও সাধনা করলেই হবে। তবেই আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতি সম্ভব। ভগবানের সাক্ষাৎকার, হৃদয়ে তাঁর অনুভব, তাঁকে আপনবোধ করা—এই আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে ইষ্টমন্ত্র জপ এবং সেই সঙ্গে বিধান অনুযায়ী সৎচিন্তা, সৎসঙ্গ, সৎপ্রসঙ্গে মনকে নিবিষ্ট রাখতে হবে। সত্য কথা বলা ধর্ম, কিন্তু রূঢ়তা অধর্ম। আবার অপ্রিয় সত্য বলে কারো মনে কষ্ট দিতে নেই। রূঢ় সত্যকথনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজের অভিমান-অহংকারের বৃত্তিকেই তৃপ্ত করা হয়, মনুষ্যত্বের বিকাশে তা সাহায্যে আসে না। শ্রদ্ধাবন লভতে জ্ঞানম্। শ্রদ্ধা না থাকলে জ্ঞান লাভ হয় না। শ্রদ্ধার উপর এতটা জোর দেওয়া হয়েছে। যে আদর্শের কথা মুখে বলছ তা জীবনে পালন করতে হবে। যদি তা না কর তাহলে লোকেরা তোমাদের উপহাস করবে, তোমাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আসবেনা। সমগ্র জীবন ধরেই এই অনুশীলন তোমাদের করতে হবে। ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলীর সর্বোত্তম বিকাশ সাধন। যে ভগবান সকল গুণের আধার, তাঁর চিন্তা করে তাঁর ধ্যান করে নিজেদেরকে দেবত্বে উন্নীত করতে হবে। যতই আমরা রূপান্তরিত হব ততই পরিপূর্ণ আনন্দ, জ্ঞান ও শান্তির দিকে এগিয়ে যাব।

