দেশ
কালোজাদুর আড়ালে এয়ারহোস্টেসকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: অসুস্থ স্বামীকে ভালো করে দেওয়ার টোপ দিয়ে এক বিমানসেবিকাকে (এয়ারহোস্টেস) ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের পোয়াই এলাকার একটি বহুতল আবাসনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ২৮ বছর বয়সি অভিযুক্ত অনিল শিন্দেকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত অনিল নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই বিমানসেবিকার বিশ্বাস অর্জন করেছিল। সে দাবি করে, ‘নজর কাটানো’ বা এক বিশেষ কালোজাদুর মাধ্যমে সে ওই মহিলার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্বামীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দিতে পারবে। স্বামীর আরোগ্যের আশায় সরল বিশ্বাসে ওই তরুণী যুবকটিকে নিজের ফ্ল্যাটে ঢোকার অনুমতি দেন। অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর অভিযুক্ত অনিল মন্ত্র পড়ার নাম করে মহিলার গায়ে এক ধরনের জল ছিটায়। এরপর তাঁকে পুরোপুরি ‘বশ’ করে ফেলে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এই চরম লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পর, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই বিমানসেবিকা পোয়াই থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে পুলিশের বিশেষ দল। সিনিয়র ইনস্পেক্টর এ এস সাওয়ান্ত, ইনস্পেক্টর সুশান্ত বান্দগর এবং সাব-ইনস্পেক্টর সন্দীপ পাটিলের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। অভিযুক্ত আবাসন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কোন পথে গিয়েছিলেন, তা জানতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশের দাবি, পোয়াইয়ের আবাসন থেকে কালওয়া পর্যন্ত তাঁর গতিবিধি জানতে ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ মূল অভিযুক্ত অনিল শিন্দেকে পাকড়াও করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় প্রতারণা এবং ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর মুম্বইয়ের ওই অভিজাত আবাসন এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। অপরিচিত বা স্বঘোষিত তান্ত্রিকদের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে পুলিশ প্রশাসন। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

