দেশ
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নাজেহাল রাশিয়ার পাশে ‘বন্ধু’ ভারত
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যের সমীকরণে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক মোড়। যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ভারত নির্ভরশীল, সেই রাশিয়াকেই এবার জ্বালানি সংকট থেকে বাঁচাতে আসরে নামতে হলো নয়াদিল্লিকে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগারগুলিতে ক্রমাগত ড্রোন হামলার মুখে পড়ে নজিরবিহীন পেট্রোল সংকটে ভুগছে মস্কো। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে ভারত থেকে পরিশোধিত পেট্রোল তথা গ্যাসোলিন আমদানি শুরু করেছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে একে এক মস্ত ‘উলটপুরাণ’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিল্প সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত পেট্রোল নিয়ে দুটি বিশালাকার ট্যাঙ্কার ভারত থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হানায় রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ ধসে পড়েছে, যার ফলে দেশটিতে দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার টনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, রাশিয়ার বহু প্রশাসনিক অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন ও জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে। এই চাহিদা মেটাতে মস্কো প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যার অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে ভারত।
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে এক অদ্ভুত পরিহাস হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ সস্তা অপরিশোধিত তেল কিনছে। সেই রুশ তেলই ভারতীয় শোধনাগারে পরিশোধিত হয়ে এখন পেট্রোল হিসেবে পুনরায় রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরে যাচ্ছে। রুশ সংসদ ইতিমধ্যেই এই আমদানিকে সহজ করতে বিশেষ কর ছাড় ও ভর্তুকির অনুমোদন দিয়েছে, যা ভারতীয় জ্বালানি পরিবহণের খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউক্রেনকে তেল সরবরাহ করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে বহুবার পশ্চিমা দেশগুলির প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে, তবে এবার খোদ রাশিয়ারই ভারতের তেল শোধনাগারের ওপর এই নির্ভরতা বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির কৌশলগত গুরুত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

