গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে স্ত্রীর মৃত্যু, ১১ বছরের লড়াইয়ের পর ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘটনার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ১১টি বছর। রান্নাঘরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার লিক (LPG Cylinder Leak) করার জেরে ঝলসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল স্ত্রীর। অবশেষে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিচার পেলেন নাগপুরের বাসিন্দা সাহেবরাও কাটারে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুলাই নাগপুর জেলা ক্রেতা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (District Consumer Disputes Redressal Commission) এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিমা সংস্থাকে ওই ব্যক্তিকে সুদসহ ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর পাশাপাশি গাফিলতির দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডকে (BPCL) ওই পরিবারকে অতিরিক্ত ৬০,০০০ টাকা দেওয়ারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর। সেদিন রান্নাঘরে রান্না করার সময় হঠাৎ করেই সাহেবরাওয়ের বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারটি থেকে গ্যাস লিক করতে শুরু করে এবং মুহূর্তে তা থেকে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে মারাত্মকভাবে ঝলসে যান সাহেবরাওয়ের স্ত্রী দেবরত্না কাটারে। চোখের সামনে স্ত্রীকে জ্বলতে দেখে নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান স্বামী সাহেবরাও। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে সাহেবরাও নিজেও প্রায় ১২ শতাংশ পুড়ে যান। দুর্ঘটনার পরই দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানান, স্ত্রী দেবরত্না দেবীর শরীরের প্রায় ৫৪ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে টানা তিন মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেবরত্না কাটারে।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর সাহেবরাও যখন বিমা ও ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন, তখন সুরক্ষার নানা আইনি ফাঁকফোকর ও কাগজপত্রের অজুহাত দেখিয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থা ও বিপিসিএল। নিজের অধিকার বুঝে নিতে শেষমেশ ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হন সাহেবরাও। অবশেষে দীর্ঘ ১১ বছর পর আদালত উপভোক্তার পক্ষে রায় দিয়ে স্পষ্ট জানাল, গ্রাহকের এই ক্ষতি এড়ানো যেত না এবং এর দায় বিমা সংস্থা ও উৎপাদনকারী সংস্থাকেই নিতে হবে। দেরিতে হলেও এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন প্রবীণ সাহেবরাও।

