জেলা
কপালে তিলক ও তুলসীর মালা পরায় ছাত্রীকে অপমানের অভিযোগ, পুরুলিয়ায় চাঞ্চল্য
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কপালে চন্দনের তিলক কেটে এবং গলায় তুলসীর মালা পরে স্কুলে আসায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তিরস্কার ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এমনকি জোরপূর্বক ওই ছাত্রীর কপাল থেকে তিলক মুছিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের ‘পাড়া গার্লস হাইস্কুল’ (উচ্চ মাধ্যমিক)-এর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোরগোল তৈরি হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।
ক্ষুব্ধ ছাত্রীর দাবি, গুরুদেবের কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই সে নিয়ম মেনে কপালে তিলক এবং গলায় তুলসীর মালা পরে আসত। কিন্তু স্কুলের এক শিক্ষিকা বরাবরই তাঁকে তিলক মুছে ফেলার জন্য চাপ দিতেন। গত ২২ জুন স্কুলের প্রার্থনা সভায় সকলের সামনে ওই ছাত্রীর কপালের তিলক জোর করে মুছিয়ে দেওয়া হয় এবং এভাবে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা ওইদিনই স্কুলে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ছাত্রীর পরিবারের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছাত্রীর মোবাইল ফোনে ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ (TC) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং পরিচালন সমিতি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিলক বা তুলসীর মালা পরা নিয়ে স্কুলের কোনো আপত্তি ছিল না। এটি আসলে ওই ছাত্রীর তৈরি করা একটি ভিত্তিহীন গল্প। স্কুলের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ অনুশাসন বজায় রাখার জন্য প্রার্থনার সময় সব ছাত্রীদের উদ্দেশ্যেই সাধারণ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উল্টে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার সোশাল মিডিয়ায় স্কুল ও শিক্ষিকাদের নামে কুৎসা এবং ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ এনেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও জট কাটাতে ব্লক প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই বার দুয়েক স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রীর পরিবারকে যৌথ আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। স্কুল প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও, ছাত্রীর পরিবারের তরফে কেউ হাজির হননি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা স্কুল পরিদর্শক (DI) মহুয়া বসাক নিজে স্কুলে গিয়ে তদন্ত করেছেন এবং তাঁর প্রস্তুত করা বিশদ রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) সহ বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করায় স্কুল চত্বরের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে বাড়তি নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

