তকিপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঘোষণা, মুর্শিদাবাদের জন্য উন্নয়ন-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি
রিচা দত্ত, মু্র্শিদাবাদ: তকিপুর ময়দানের জনসভা থেকে রাজ্যের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাভাঙন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, প্রশাসনিক সংস্কার থেকে পর্যটন - সব দিকেই নজর দেওয়ার কথা বললেন তিনি।
অতীতকে কাঠগড়ায়, সিএএ নিয়ে জবাব-
বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনকে ‘অশান্তির কাল’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলডাঙা, রেজিনগর, ধুলিয়ান, শক্তিপুর, শামসেরগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "ওদের কাজই ছিল আগুন লাগানো।"
২০১৯-এ সিএএ নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল তারও জবাব দেন। "বলা হয়েছিল মুসলিমদের নাগরিকত্ব যাবে। তাই হাজারদুয়ারিতে ভাঙচুর। কিন্তু আজ সিএএ চালু, কারও নাগরিকত্ব যায়নি।"
মুর্শিদাবাদের জন্য নতুন পরিকল্পনা-
জেলার ঐতিহ্য ও পর্যটনকে সামনে রেখে কিরীটেশ্বরী-সহ বিভিন্ন হেরিটেজ স্থানের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি রেজিনগরে শিল্প গড়ে তোলা, থানাগুলিতে জনবল বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনার কথা বলেন।
সব দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে সব বিধায়ককে ডাকা হয়েছে। "লালগোলা হাসপাতালের উন্নয়ন হচ্ছে, ওখানে আমার দলের বিধায়ক নেই। আমি দল-রং দেখি না, কাজ দেখি।"
অপরাধে কড়া হুঁশিয়ারি-
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানান। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে সব জেলাকে নির্দেশ দিয়েছেন পুরনো নারী নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির কেস ফের খুলে দেখতে। এফআইআর না হলে নতুন করে করতে হবে।
"আপনারা যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সে দুর্বল নয়। আমার আমলে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না," - বলেন তিনি।
নাম না করে এক বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, "দুই জায়গা থেকে জিতেছেন, সংবিধান মেনে চলুন।"
সামাজিক সুরক্ষা ও গঙ্গাভাঙন-
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ১৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১২ লক্ষ মহিলা ১ জুলাই থেকে টাকা পাচ্ছেন। আবেদনের শেষ দিন ৩০ আগস্ট ২০২৬। যোগ্য কেউ যেন বাদ না যায় তা দেখতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
গঙ্গাভাঙন রোধে বড় স্বস্তির খবরও দেন। কেন্দ্র-রাজ্য মিলে ৩,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা, ভগবানগোলা, লালগোলা এলাকার জন্য খরচ হবে প্রায় ২,৫০০ কোটি। ৫০% টাকা দেবে কেন্দ্র। এতে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা।
একইসঙ্গে রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে কাজের ব্যবস্থা করতে DM-কে নির্দেশ দেন।
তকিপুরের মঞ্চ থেকে এদিন উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন - এই তিন বার্তাই জোরালোভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

