বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

আল কায়দা-আইএসআইএসের থাবা এড়িয়ে ফুটবল মঞ্চে ইরাকের ‘ফিনিক্স পাখি’

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬
আল কায়দা-আইএসআইএসের থাবা এড়িয়ে ফুটবল মঞ্চে ইরাকের ‘ফিনিক্স পাখি’
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: একটা ছিমছাম মাথা গোঁজার ছাদ, যেখানে সুখে-শান্তিতে বাঁচবে পুরো পরিবার— এই সাধারণ স্বপ্নটুকুই সম্বল ছিল ইরাকের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের। কিন্তু ২০০৮ সালের এক নারকীয় ঘটনায় তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। আল কায়দার গুলিতে প্রাণ হারান পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বাবা। সেই ধাক্কা কাটার আগেই কয়েক বছর পর হানা দেয় জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস (ISIS)। তাদের হাতে অপহৃত হয়ে চিরতরে হারিয়ে যান বড় দাদাও। বোমাবর্ষণ, গুলির শব্দ আর চেনা মানুষদের আর্তনাদকে সঙ্গী করে বড় হওয়া সেই বিধ্বস্ত পরিবারের সন্তানই আজ বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন। 

নরওয়ের বিরুদ্ধে হেডে অনবদ্য গোল করে গোটা বিশ্বকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিলেন ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরাক। আমেরিকার বস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে শক্তিশালী নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। আর্লিং হালান্ডের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলেও ম্যাচের ৩৯ মিনিটে রূপকথা লেখেন ৩০ বছর বয়সী আয়মেন। আমির আল আমারির ভাসানো ক্রস থেকে বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের টপকে এক বুলেট হেডে গোল করে সমতা ফেরান তিনি। যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ইরাক ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আয়মেনের পা থেকেই একটি আত্মঘাতী গোল আসে, তবুও এই ম্যাচ শুধু হারের খতিয়ান হয়ে থাকল না। এটি হয়ে রইল এক লড়াকু ফুটবলারের জীবনযুদ্ধের দলিল।
বাবার মৃত্যুর পর ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন আয়মেন। কিন্তু মা হাল ছাড়েননি। চোখের জল মুছে ছেলেকে বলেছিলেন, ‘‘খেলা থামিও না, বাবার স্বপ্ন পূরণ করো।’’ মায়ের সেই জেদকে সঙ্গী করেই আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের দ্বিতীয় গোলদাতা হিসেবে নাম খোদাই করলেন ‘মেসোপটেমিয়ার সিংহ’ আয়মেন হুসেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের যুবসমাজের কাছে তিনি এখন এক রূপকথার নায়ক।