সাপ ছেড়ে স্বামীকে খুনের ছক মিরাটে, ধৃত স্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন: অন্ধ্রপ্রদেশের ছায়া এবার উত্তরপ্রদেশে। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে নিজের স্বামীকে বিষাক্ত সাপ দিয়ে কামড়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ারও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত মহিলা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অপরাধ কবুল করলেন স্ত্রী। হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যোগীরাজ্যের পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অতুল পানওয়ার। তিনি হস্তিনাপুর এলাকায় শিশুদের একটি স্কুল চালাতেন। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? শনিবার ভোরে তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভাঙে অতুলের। বিছানায় একটি বিষাক্ত সাপ দেখতে পান তিনি। স্বামী সাপের কামড় খেয়েছেন দেখে তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান স্ত্রী দামিনী। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুরে মৃত্যু হয় অতুলের।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে সাপের কামড়ে সাধারণ দুর্ঘটনা বলেই মনে করেছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় দামিনীর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় সন্দেহ বাড়ে তদন্তকারীদের।
পুলিশি জেরার মুখে দামিনী স্বীকার করেন যে, তাঁর গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। অতুলকে পথের কাঁটা সরাতে এবং স্বামীর নামে থাকা ২০ লক্ষ টাকার বীমার (Insurance) রাশি হাতাতেই এই নীল নকশা তৈরি করেছিলেন তাঁরা।
মৃত্যু নিশ্চিত করতে দামিনী ঘুমানোর আগে অতুলের দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর প্রেমিক তুষারের সাহায্যে বিছানায় ছেড়ে দেওয়া হয় বিষাক্ত সাপ। এই খুনের সুপারি দিতে আরও দু’জনকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দামিনী। পুলিশ ইতিমধ্যেই দামিনী, তাঁর প্রেমিক তুষার এবং অন্য দুই সহযোগীকে গরাদপুরের পেছনে পাঠিয়েছে।

