১৮ বছর পর একই মঞ্চে কেন্দ্র-রাজ্য! হাওড়ায় আমূলের মেগা প্রকল্পের সূচনা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সিঙ্গুর-শালবনি পর্বের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৮টি বছর। অবশেষে জট কেটে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রবিবার কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে Press Information Bureau আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাওড়ার সাঁকরাইলে প্রস্তাবিত আমূলের মেগা ডেয়ারি প্রকল্পের ভূমিপূজন করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, একই মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
২০০৮ সালের পর এই প্রথম রাজ্যের কোনও বড় শিল্প প্রকল্পের সূচনায় একই মঞ্চে দেখা যাবে প্রথম সারির কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে। এর আগে ২০০৮ সালে শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর ইস্পাত কারখানার শিলান্যাসে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান এবং মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একমঞ্চে হাজির হয়েছিলেন। তবে সেই ইস্পাত কারখানা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সেদিক থেকে আমূলের এই প্রকল্প সফল হলে তা রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।
গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF) ব্র্যান্ড ‘আমূল’-এর এই Amul Bengal Dairy Project-এর জন্য রাজ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে ১৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদিত হবে, যা হবে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র।
এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের (Processing) ক্ষমতা থাকবে।বর্তমানে রাজ্যের ১.২৫ লক্ষেরও বেশি দুগ্ধচাষী আমূলের সঙ্গে যুক্ত। এই নতুন কারখানার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং চাষীদের আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
শিল্পায়নের খরা কাটিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করছে।

