সর্বশেষ খবর
মৃত্যুর ক্ষতিপূরণে তৃণমূল নেতাদের ভাগ বসানোর ঘটনায় ফের থানার দ্বারস্থ পরিবার
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বুদবুদে যুবকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণে তৃণমূল নেতাদের ভাগ বসানোর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। নির্মম, নিষ্ঠুর সেই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মৃত যুবকের বাবা বুদবুদ থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পরেও মৃত যুবকের মাকে ‘কেস তুলে নেওয়ার’ জন্য চাপ দিলেন এক অভিযুক্তের স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে ফের থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই পরিবার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুদবুদের সিন্ডিকেট পাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর কাজে এসেছিলেন রানা বাউরি। মার্বেল পাথরের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু পাথর কাটা মেশিন চলার সময় শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। তাতে গুরুতর জখম হন রানা। দ্রুত উদ্ধার করে পুরসা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তখন শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের বাবা চন্দন বাউরী অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার একদিন পরেই বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডু সহ আরও তিনজন তৃণমূলের নেতা তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিনিময়ে বাড়ির মালিক ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমি যেন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করি সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়। এরপর বাড়ির মালিক, ঠিকাদার ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আমার একটি বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয় ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে আমার কাছে দেড় লক্ষ টাকা আসে। কিন্তু বাকি দেড় লক্ষ টাকা পাইনি। বাড়ির মালিককে চাইতে গেলে বলা হয়েছে তৃণমূলের ওই নেতাদের দিয়ে দিয়েছে। পরে বাড়িওয়ালাকে সঙ্গে নিয়ে নেতাদের কাছে গেলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে ও প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে।
তৃণমূল জমানার অবসান হতেই চন্দনবাবু ওই চার নেতার বিরুদ্ধে বুদবুদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তখন ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। অন্য একটি মামলায় রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডু নামে ওই উপপ্রধান ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
কিন্তু অভিযোগ, এবার বাকি তিন তৃণমূল নেতার মধ্যে অন্যতম বিশ্বজিৎ দে’র স্ত্রী সুস্মিতা দে শুক্রবার সরাসরি চন্দনবাবুর বাড়িতে গিয়ে ‘কেস’ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন। ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন সন্তানহারা বাবা-মা। তাঁদের দাবি, আমাদের সন্তান চলে গিয়েছে। আর কত অত্যাচার এভাবে সহ্য করতে হবে? এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজিতবাবুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা রোহিত সিং বলেন, চন্দনবাবুকে ভালভাবেই চিনি। তিনি এতদিন সব কষ্ট সহ্য করে ছিলেন। বুদবুদে এতদিন শাসকের আইন ছিল। এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য তৃণমূল নেতারা কত নিচে নামতে পারেন এই ঘটনা তার প্রমান। প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাবো সন্তানহারা বাবা-মায়ের সঠিক বিচার দ্রুত পাইয়ে দিন।

