বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে পরকীয়া, স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রীর
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে বিজেপি প্রার্থী ও কংগ্রেস প্রার্থীর এজেন্টের সম্পর্ক ঘিরে তোলপাড়। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর ও বেআইনি বিয়ের অভিযোগ আনলেন কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রী। সুবিচারের আশায় সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
অভিযোগকারীর নাম পূর্ণিমা দাস। তাঁর স্বামী উদ্দীপন দাস ভরতপুরে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আজাহারউদ্দিনের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। পেশায় তিনি তালগ্রাম স্কুলের শিক্ষক। বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর। পূর্ণিমার সঙ্গে তাঁর ১০ থেকে ১১ বছরের বিবাহিত জীবন। রয়েছে দুটি ছোট ছেলেমেয়ে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অনামিকা ঘোষ। পূর্ণিমার দাবি, নির্বাচনের সময় থেকেই বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁর স্বামী।
পূর্ণিমার অভিযোগ, “সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুই ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে সেখানেই আছি।” তাঁর আরও দাবি, গত ২৭ জুলাই স্বামী উদ্দীপন দাস বিজেপি নেত্রী অনামিকা ঘোষকে বেআইনিভাবে বিয়ে করেছেন।
পূর্ণিমা জানান, বিভিন্ন জায়গায় বিচারের আবেদন করেও সাড়া না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “সমস্ত জায়গায় বিচারের দাবিতে আবেদন করেও বিচার মেলেনি। শেষ আশা নিয়ে তাই সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও পোস্ট।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই গাড়ি কেনা নিয়ে অনামিকা ঘোষকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু নিয়েও জল্পনা রয়েছে। এমনকি ৪ দিন আগেও একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
যদিও এই বিষয়ে বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ বা অভিযুক্ত উদ্দীপন দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

