সর্বশেষ খবর
আপৎকালীন সংকটে হাতিয়ার ‘লোন এগেনস্ট সিকিউরিটিজ’
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘরের দোরগোড়ায় হঠাৎ এসে হাজির হয়েছে বড় কোনও আপৎকালীন খরচ। তা সে সন্তানের উচ্চশিক্ষা হোক, চিকিৎসার বিপুল খরচ কিংবা ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন— মধ্যবিত্তের প্রথম চিন্তাই থাকে জমানো ফিক্সড ডিপোজিট (FD) ভেঙে ফেলা অথবা কষ্টার্জিত মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে এই বিনিয়োগ ভাঙলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। এই পরিস্থিতিতে মুশকিল আসান করতে পারে ‘লোন এগেনস্ট সিকিউরিটিজ’ বা ‘ল্যাস’ (LAS)।
সহজ কথায়, এই ব্যবস্থায় আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বা অন্যান্য অনুমোদিত সরকারি বন্ড বন্ধক রেখে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লোন নেওয়া যায়। বর্তমান বাজারে এই প্রক্রিয়াটি সাধারণ লগ্নিকারীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বেচে দেওয়া সহজ হলেও, ল্যাস-এর মাধ্যমে নিজের মূল বিনিয়োগকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখেই বাজারে প্রয়োজনীয় টাকা হাতে পাওয়া সম্ভব।
তবে এই ঋণের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এবং নিয়ম মেনে চলতে হয়। সাধারণত আপনি যে সিকিউরিটিজ বা শেয়ার বন্ধক রাখছেন, তার বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ) ঋণ হিসেবে পেতে পারেন। এটি পার্সোনাল লোনের তুলনায় অনেক কম সুদে পাওয়া যায়। যেহেতু এটি একটি ‘ওভারড্রাফট’ অ্যাকাউন্টের মতো কাজ করে, তাই লোন হিসেবে নেওয়া সীমার মধ্যে থেকে আপনি ঠিক যতটুকু টাকা খরচ করবেন, কেবল সেটুকুর ওপরই সুদ দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, শেয়ার বাজারের উত্থান-পতনের সঙ্গে এই লোনের কিছুটা ঝুঁকি জড়িয়ে থাকে। শেয়ারের দাম খুব বেশি পড়ে গেলে ব্যাঙ্ক বাড়তি টাকা বা অতিরিক্ত শেয়ার বন্ধক রাখার দাবি জানাতে পারে। তবুও, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে অক্ষুণ্ণ রেখে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাহিদা মেটাতে ল্যাস অত্যন্ত লাভজনক একটি বিকল্প।

