বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

চৈতন্যের সঙ্গে সংযোগ 

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬
চৈতন্যের সঙ্গে সংযোগ 
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

মহা আড়ম্বরে যোগদিবস পালন করলাম, ফটো তুললাম, বিভিন্ন মাধ্যমে পোস্ট করলাম, সাময়িক আনন্দ পেলাম। কিন্তু এরপর কি করতে হবে? মহর্ষি পতঞ্জলি বলছেন, যোগ মূলত দুটি অঙ্গের উপর প্রতিষ্ঠিত —অভ্যাস ও বৈরাগ্য। এরই প্রতিধ্বনি শুনি শ্রীমদ্ভাগবত গীতায়। শ্রীভগবান বলছেন - "অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেণ চ গৃহ্যতে।" স্থিতির জন্য যে যত্ন বা প্রয়াস তারই নাম অভ্যাস। কিন্তু আমাদের চিত্ত তো নদীর মতো, প্রবাহমানতাই তার ধর্ম, পরিণামই তার স্বভাব। তাকে কীভাবে স্থিতির জন্য প্রয়াস করা সম্ভব? বলা হলো— অশান্ত হয়ে তাকে বইতে না দিয়ে প্রশান্তরূপে তাকে বইয়ে দেবার চেষ্টা করো। এরই নাম স্থিতি। চিত্তস্য অবৃত্তকস্য প্রশান্তবাহিতা স্থিতিঃ— বৃত্ত বা পরিণামরূপ তরঙ্গ থামিয়ে চিত্তকে শান্তভাবে বয়ে যেতে দাও। এই ধারাবাহিক প্রযত্ন করার মাঝেও প্রশ্ন আসবে —"কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে তোমারে দেখিতে দেয় না।" তাই এই স্থিতিকে পাকা করতে হলে চাই তিনটি জিনিস—দীর্ঘকাল ধরে অভ্যাস, নিরন্তর নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাস এবং পরম আদর বা যত্নের সঙ্গে অভ্যাস। এ তো একদিনের লোকদেখানো কাজ নয়, অনন্তকালের অশান্তির সংস্কার যা মনের মধ্যে বেঁধে আছে তা রাতারাতি সরে গিয়ে প্রশান্তি এনে দেবে তা তো আশা করা যায় না। অভ্যাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত হয়ে আছে আর এক যোগসাধনার অঙ্গ — বৈরাগ্য। যুগপৎ একইসঙ্গে চালাতে হবে দুটি সাধন - ইতিবাচক ও নেতিবাচক। প্রথমটি ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকা আর দ্বিতীয়টি ছাড়তে শেখা। মন লাগাও। এর নাম অভ্যাস। মন সরাও , মন গোটাও, এর নাম বৈরাগ্য। "হরিসে লাগি রহো রে ভাই/ বনত বনত বন যাই।"  নিষ্ঠা ও যত্ন সহকারে নিরবচ্ছিন্নভাবে সুদীর্ঘকাল লেগে থাকলে উর্দ্ধস্রোত উন্মোচিত হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সঙ্গে নিম্লস্রোত তো রুদ্ধ করতে হবে। না হলে উর্দ্ধস্রোত থেকে যাকিছু প্রবাহিত হয়ে আসবে সবই তো বেরিয়ে যাবে নিম্নপথ দিয়ে। জমিতে জল ধারণ করতে হলে আগে চারিদিকে ছোট ছোট গর্তগুলো বন্ধ করতে হবে, নইলে সব জলই বেরিয়ে যাবে।