হট টপিক
মালদহে হাড়হিম করা নৃশংসতা! স্ত্রীকে খুঁটিতে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল স্বামী
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন স্ত্রী। প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাগ সামলাতে না পেরে আছড়ে ভেঙে ফেলেছিলেন স্বামীর মোবাইল ফোনটি। আর সেই আক্রোশেই স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে! মালদহের মানিকচক থানা এলাকার নুরপুর গ্রামে এই হাড়হিম করা নৃশংস চঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত তরুণীর নাম চুন্নি খাতুন (২০)। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্য পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের কাটিহার জেলার বাইরিয়া এলাকার বাসিন্দা চুনির সঙ্গে বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছিল মানিকচকের নুরপুরের বাসিন্দা তথা পেশায় ব্যবসায়ী সামিউলের। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু দিন কাটতেই সামিউলের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি চুনির সামনে চলে আসে। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র অশান্তি লেগে থাকত। ঘটনার দিন স্বামীর পরকীয়া ধরে ফেলার পর চুন্নি রেগে গিয়ে সামিউলের মোবাইল ফোনটি ভেঙে দেন। অভিযোগ, মোবাইল ভাঙতেই অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে সামিউল। রাগের মাথায় স্ত্রীকে প্রথমে মারধর এবং পরে বাড়ির উঠোনের একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।তরুণীর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার পর চুনির বাপের বাড়ির লোকেদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা মানিকচক থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য ও পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় চুনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘটনার পর থেকেই পুরো পরিবার পলাতক থাকায় সামিউল ও তার আত্মীয়দের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

