হট টপিক
সচেতনতাই সুস্থতার চাবিকাঠি, স্তন ভালো রাখতে মেনে চলুন এই জরুরি নিয়মগুলি
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্তমান সময়ে মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসার এবং স্তনজনিত অন্যান্য শারীরিক সমস্যার গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসে অসচেতনতা এবং সঠিক অন্তর্বাস নির্বাচন না করার মতো ছোট ছোট ভুলের খেসারত দিতে হয় স্তনের স্বাস্থ্যকে। অথচ সামান্য কিছু দৈনন্দিন সতর্কতা এবং সচেতনতাই পারে স্তনকে সুস্থ, সুন্দর ও রোগমুক্ত রাখতে। স্তনের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য কোন কোন বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি, তা নিয়ে রইল একটি বিস্তারিত গাইডলাইন।
স্তন ভালো রাখতে এবং ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকেরা সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
• সঠিক অন্তর্বাস নির্বাচন: সারাদিন খুব বেশি টাইট বা অনমনীয় আন্ডারঅয়ারড অন্তর্বাস পরে থাকবেন না। এটি স্তনের রক্ত ও লিম্ফ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। রাতে ঘুমানোর সময় অন্তর্বাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
• সুষম আহার ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল, সবুজ শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার স্তনের কোষগুলিকে ভালো রাখে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
• নিয়মিত স্তন পরীক্ষা (SGE): প্রতি মাসে পিরিয়ডস শেষ হওয়ার পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করুন। কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড বা লাম্প, চামড়ার রঙের বদল বা স্তনবৃন্ত থেকে তরল নির্গত হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য করুন।
• শারীরিক ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন করুন। বুক বা চেস্টের মাসল টোন করার জন্য পুশ-আপ বা হালকা ডাম্বেল ফ্লাই করতে পারেন, যা স্তনের সঠিক গঠন বজায় রাখে।
• ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন: তামাক এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের ফলে স্তনের টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৩০ পেরিয়ে গেলে প্রতি ৩ বছরে অন্তত একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ব্রেস্ট এক্সামিনেশন করানো উচিত। আর বয়স ৪০ পার হলে প্রতি বছর বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘ম্যামোগ্রাফি’ স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত আবশ্যক। স্তনে কোনো রকম ব্যথা, আকৃতির আকস্মিক পরিবর্তন বা শক্ত ভাবের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে স্তন রোগ বিশেষজ্ঞ বা অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, লজ্জা নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সচেতনতাই পারে আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে।

