অষ্টমীতে মহাগৌরী
আজ মহাষ্টমী। সাধনার অষ্টম স্তরে মা আবির্ভূতা হন মহাগৌরী রূপে। সাধনার সপ্তম স্তরে সাধকের বিশ্ব-আত্মচেতনা বিলীন হয়ে গেছে —মহারাত্রি। এবার জেগে উঠছে অন্য চেতনা —মহাগৌরী।মহারাত্রি কালো,মহাগৌরী উজ্জ্বল, সাদা।মহারাত্রি অন্ধকারময়,মহাগৌরী তীব্র আলোকময়।মহারাত্রি সর্বশূন্য,মহাগৌরী সর্বপূর্ণ।মায়েরই দুই রূপ।এই দুই রূপ পরস্পরবিরোধী নয়, পরস্পরের পরিপূরক। রাতের অন্ধকারের পর যেমন নতুন সূর্যের আলোয় চারিদিক ভরে যায়, তেমনি মায়ের মহারাত্রি রূপের পর আসে মায়ের মহাগৌরী রূপ। সাধকের আত্মসত্তা নতুন রূপে প্রকাশিত হয়।সৎ,চিৎ, আনন্দ হয়ে ওঠে সাধকের সত্ত্বা। এখন শুধুই সর্বব্যাপী উজ্জ্বল সত্ত্বা।মহারাত্রি বা মহাকালী ও মহাগৌরী অর্থাৎ দুর্গা দুই-ই দুর্জ্ঞেয়া, জ্ঞানের বাইরে।মহারাত্রিরূপে সব ঐশ্বর্যকে আকর্ষণ করে নিয়েছেন নিজের মধ্যে। সবকিছুই স্থূল-সূক্ষ্ম হয়ে কারণে বা বীজে চলে গেছে। একমাত্র আন্তরিক সাধকরাই তাঁকে অনুভব করতে পারেন। কারণ তিনি যেমন দুর্জ্ঞেয়া তেমনি বাক্য ও মনের অতীত। তাঁর সম্বন্ধে শুধু ইঙ্গিত দেওয়া যায়।তবে সাধকের কাছে মা আবির্ভূতা হন এই রূপে কৃপা করে।

