জয়মা সিদ্ধিদাত্রী
মা দুর্গার নবম রূপটি হলো— সিদ্ধিদাত্রী। মাকে আমরা সাধারণত অনুভব করার চেষ্টা করি এই জগৎ রূপে, জীবরূপে, শক্তিরূপে, জড়রূপে, চেতনারূপে, চিন্তারূপে, ভাবরূপে ইত্যাদি। শ্রীশ্রীচন্ডীর বিভিন্ন অধ্যায়ে এ-কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে মায়ের অব্যক্ত রূপও আছে। সাধনার নবম স্তরে সাধককে মা তাঁর তুরীয় অবস্থার পরিচয় দেন। এরপর আর কোন রূপ নেই মায়ের। এটাই যেন নতুন বা আর এক সিদ্ধি। এজন্যই মাকে সিদ্ধিদাত্রী বলা হয়েছে। সাধনার প্রতি স্তরেই তো মা বিভিন্ন রকম সিদ্ধি দিয়ে এসেছেন। প্রকৃতপক্ষে সপ্তম স্তরেই সাধকের "আমি" মায়ের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এই নবম স্তরে সাধক অনুভব করেন যে তিনি মা' র থেকে আলাদা কোন সত্ত্বা নন। অব্যক্ত সত্ত্বায় তিনি মায়ের সঙ্গে অভেদ। মা যখন অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হতে শুরু করেন তখনই জীবের যেন আবির্ভাব হয়। মা-ই জীবরূপে প্রকাশিত হন। সৃষ্টির বিভিন্ন স্তরে জগৎ-জড়-মন-বিষয় ইত্যাদি রূপে মা প্রকাশিত হতে থাকেন। এটাই মায়ের সৃষ্টি। জীব মূলত মা-ই। মা-ই একরূপে চোর অন্যরূপে পুলিশ সেজে খেলছেন। আমরা মাটির প্রতিমায় মায়ের পূজা করি। ফুল ধূপ হোম নৈবেদ্য ইত্যাদির মাধ্যমে পূজা করি। আমাদের মত সাধারণ মানুষ মনে করি যে এগুলি জড়, এবং মা ঈশ্বরী এসব থেকে পৃথক এক সত্তা। কিন্তু সাধক জানেন ফুলধূপ নৈবেদ্য ও অন্যান্য উপাচার গুলি পৃথক নয় বা জড় পদার্থ নয়। জড় পদার্থ বলে যা কিছু দেখি সবই মা। পূজায় ফুলরূপে, গন্ধরূপে, অগ্নিরূপে মা-ই আছেন। মা যখন সর্বত্র রয়েছেন তখন প্রতিমার কি দরকার? আসলে আমরা সাধ্যমত একটি ভাব বেছে নিয়েছি, কারণ তাঁর অনন্তভাবকে অনুভব করা আমাদের পক্ষে কঠিন। আমাদের মধ্যে জাগতিক চাহিদা আছে বলেই আমরা কেউ লক্ষ্মীরূপে ,কেউ সরস্বতীরূপে, কেউ কালীরূপে আবার কেউবা দুর্গারূপে মায়ের পূজা করি। কিন্তু সাধক জানেন সবার সত্তাই আদ্যাশক্তি মহামায়া জগজ্জননী।মা নিজেই সাধক সেজেছেন। ইষ্ট বা উপাস্য সেজেছেন। মা নিজেই সাধনা করছেন।

