সর্বশেষ খবর
ভুল অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, বর্ধমানে গ্রেপ্তার আরও এক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন, বর্ধমান: ভুল অস্ত্রোপচারের জেরে চার বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আরও এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম বনোজ দে। সোমবার রাতে বর্ধমান শহরেরই একটি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত, ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হককে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া এই চিকিৎসকও।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় চার বছরের এক শিশুর ফাইমোসিস অপারেশন করে ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হক। সেই অপারেশনের সময়ই শিশুটিকে অ্যানাস্থেশিয়া করার ওষুধ দিয়েছিলেন ধৃত চিকিৎসক বনোজ দে। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার আগে তাঁদের কাছ থেকে কোনও সম্মতি নেওয়া হয়নি, এমনকি তাঁদের কিছু জানানোও হয়নি। ওষুধ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শরীর নীল হয়ে যেতে শুরু করে এবং মণ্ডপ বা নার্সিংহোমেই তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ, শিশুর মৃত্যুর পর পরিবারের লোকেদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অস্ত্রোপচারকারী সাইদুল হক আসলে কোনও চিকিৎসকই নন, সে একজন ভুয়ো ডাক্তার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সাইদুল এবং চিকিৎসক বনোজ দে। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে প্রথমে দিল্লি থেকে সাইদুলকে পাকড়াও করে পুলিশ। অন্যদিকে, বনোজবাবু বর্ধমান ও তার আশেপাশের এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এই গ্রেপ্তারের পর মৃত শিশুর বাবা জয়ন্ত রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমার কোল খালি হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই বনোজ দে এবং সাইদুল হকের মতো মানুষদের এমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক, যাতে আর কোনও বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।" ধৃত চিকিৎসককে আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

