কেস ফাইল - ৩
আচমকা পর পর গুলির শব্দ। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। ঠিক কি হয়েছিল সেদিন বার্ণপুরে
বিশেষ প্রতিবেদন: তখন উৎসবের মেজাজে বার্নপুর। ৩১ ডিসেম্বরের ঘোর কাটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করছে ইস্পাত নগরী। আচমকা পর পর গুলির শব্দ। ছত্রভঙ্গ হয়ে তখন বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। ঠিক কি হয়েছিল সেদিন পড়ুন প্রতিবেদনে।
বর্ষবরণের দুপুর । পার্কের ভিতর পিকনিক আর উৎসবে মাতোয়ারা বার্নপুরের বাসিন্দারা। আসানসোল, কুলটি থেকেও এসেছেন অনেকেই। কচিকাঁচারা গল্পে মশগুল। হঠাৎ গুলির আওয়াজ। মুহূর্তের মধ্যে দেখা গেল, এক বৃদ্ধ লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। আতঙ্ক e কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে। কেউ ঠোঁটে পার্ক থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন আবার কেউ নিয়তির হাতে ভাগ্য সঁপে দিলেন। ভর দুপুরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী খুন করা হলো বার্নপুরের নেহরু পার্কে।
সকলেরই পরিচিত মুখ তিনি। তাঁর নাম সুকুমার বিশ্বাস (৬৩) ওরফে যিশু। বার্নপুরের পুরানহাট এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী সুকুমারবাবু। বিভিন্ন ধরনের তাঁর ব্যবসা ছিল । পার্কটিও তিনি লিজে নিয়েছিলেন। বছরের প্রথম দিন ভিড় হওয়ায় তিনি নিজে এসেছিলেন। তিনি ইস্কোর কাছ থেকে পার্কটি লিজ নিয়ে বছর খানেক ধরে বাণিজ্যিক ভাবে কাজ চালাচ্ছিলেন। দুপুর দু’টো ১৫ মিনিট নাগাদ সুকুমারবাবু পার্কে নৌকোবিহারের কাজকর্ম তদারকি করছিলেন। আচমকা চার যুবক খুব কাছ থেকে সুকুমারবাবুকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। হামলার প্রাথমিক রেশ কাটতেই কয়েকজন আততায়ীদের তাড়া করলেও তারা তারকাঁটার বেড়া টপকে পালিয়ে যায়। সুকুমারবাবুকে বার্নপুরের ইস্কো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান। জানা গিয়েছে, ওই ব্যসায়ীর শরীরে মোট ৪টি গুলি লাগে। সিনেমার কায়দায় পরপর গুলি চালিয়ে খুনিরা সেখান থেকে চম্পট দেয়। পুলিশ তদন্তে নেমে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। প্রাথমিকভাবে জানতে পারে খুনিরা ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছিল। কিন্তু তাদের আর পাকড়াও করা যায়নি।

